বসিরহাটে নাবালিকার বিয়ে রুখল প্রশাসন

113

শ্যাম বিশ্বাস, উওর ২৪ পরগনাঃ বসিরহাট মহাকুমার হাসনাবাদ থানার বরুনহাট গ্রামের ঢালী পাড়ায় নাবালিকার বিয়ে রুখল প্রশাসন। সেখানে দশম শ্রেণীর নাবালিকা ছাত্রীর সঙ্গে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল হিঙ্গলগঞ্জ থানার কারিগর পাড়ায় যুবক আবু হোসেনের। আবু পেশায় দর্জি।

নাবালিকার ছাত্রীকে বিয়ে দেওয়ার জন্য, গোপন ভাবে বাড়ির মধ্যেই একটি প্যান্ডেল করে পরিবার। সোমবার দুপুরবেলা বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন হয়েছিল। মেয়ে কনে সেজে বসে ছিল বাড়িতে। আত্মীয়-স্বজন ভিড় জমেছিল খাবারের মেনু সম্পূর্ণ প্রস্তুত‌। বিয়ের আচার-অনুষ্ঠান শেষ পর্যায়ে।বর আসার অপেক্ষা শুধুমাত্র।

কিন্তু এই আয়োজন সারা হলেও বাঁধ সাধল প্রশাসন। স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও গ্রামবাসীদের একাংশ এই ঘটনা স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনকে জানায়। এরপরেই হাসনাবাদ কন্যাশ্রী আধিকারিক প্রণব মুখার্জি টাকি অ্যাডাল্ট অফিসার সুনিতা ঘোষ ও পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ওই কন্যার বাড়িতে যান। সেখানে নাবালিকা বিয়ে অসুবিধা সমন্ধে  বলেন। একই সাথে এটা একটা অপরাধ বলে জানায়। যেহেতু নাবালিকা বিয়ে দেওয়া আইনত অপরাধ তাই এই বিয়েতে আপত্তি তোলেন প্রশাসনিক কর্তারা।

একদিকে কন্যা অন্যদিকে বাবা মোবারেকা ঢালীকে বোঝান তারা। একই সাথে রাজ্যে যে সরকারি প্রকল্পগুলোর রয়েছে যেমন কন্যাশ্রী, রূপশ্রী সে গুলি গ্রহণ করার আবেদন জানান তার বাবা এবং মেয়েকে সহ জানানো হয় বাড়ির অন্যান্য আত্মীয়দেরও। এখনও মুসলিমা কন্যাশ্রী প্রকল্পের সুবিধা পাবে অন্যদিকে ১৮ বছর হয়ে বিয়ের জন্য গেলে রূপশ্রীর ২৫ হাজার টাকা পাবে।

এবিষয়ে সচেতন করা হয় ঢালী পরিবারকে। এরপর ওই পরিবার সরকারী সুবিধা নিতে রাজি হয়। একই সাথে যতক্ষণ পর্যন্ত মেয়ের পূর্ণাঙ্গ বয়স না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত তারা মেয়ের বিয়ে দেবেন না বলেও শপথ নেন। কন্যা মুসলিমা খাতুন বাবা মোবারক ঢালী কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে পরে প্রশাসনিক কর্তারা ঘটনাস্থল থেকে ফেরে।