ধর্মীয় বিভেদ সরিয়ে ভাইফোঁটা ঝাড়গ্রামে

61

কার্ত্তিক গুহ, ঝাড়গ্রামঃ ভাইফোঁটার এক ব্যতিক্রমী মিলনমেলার সাক্ষী থাকল ঝাড়গ্রাম।এদিন বন্ধুদের কাছ থেকে যাঁরা ভাইফোঁটার গল্প শুনতেন , তাঁরা এমন উত্সবের মাহাত্ম্য বুঝলেন আজ। মঙ্গলবার পুরাতন ঝাড়গ্রাম সর্বজনীন শ্যামাপুজো ও দীপাবলি উত্সব কমিটির উদ্যোগে এমনই ভাইফোঁটা চলে আসছে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে। জাতি,ধর্ম নির্বিশেষে এদিন কিশোরী ও তরুণীরা একের পর এক ভাই দাদাদের কপালে ফোঁটা পড়িয়ে দেয়। তবে তাঁরা কেউ জানে না তাদের ধর্ম কি, জাতি কি। তাঁরা এও জানেন তা তাদের পরিচয়ই বা কি।

মূলত ভোরের আজান শুনে ঘুম ভাঙে সুমিত কাকলিদের। সন্ধ্যায় রাজবাড়ির সাবিত্রী মন্দিরের শঙ্খ ও সন্ধ্যারতি আর গির্জার ঘণ্টাধ্বনি মিলেমিশে একাকার হয়। প্রত্যেকে নিজের ধর্মাচারকে প্রাধান্য দেন, প্রতিদিন গির্জায় যান টিকুন বিশ্বাস।

এদিন তাঁরা বোনেদের হাতে ফোঁটা নিয়ে বলেন , ‘এই এলাকায় সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করেন। উত্সব আনন্দের দিনগুলিতে তাই সবাই একসঙ্গে সেই আনন্দ ভাগ করে নিই।’

এছাড়াও এই অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে পূজা কমিটির সদস্য তথা কাউন্সিলর তপন সিংহ বলেন, ‘এখানকার শ্যামাপুজো শুধুমাত্র পুজো নয় , সবধর্মের মানুষকে একসূত্রে গেঁথে রাখাই এই পুজোর মূল উদ্দেশ্য। এলাকার বাসিন্দারা একে মিলনমেলায় পরিণত করেছেন।