মামলা রায়ের আগে অযোধ্যায় জারি হল ১৪৪ ধারা

575

ওয়েব ডেস্ক, ১৪ অক্টোবরঃ উৎসবের মরশুম এবং অযোধ্যার বিতর্কিত জমি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সম্ভাব্য রায়ের প্রেক্ষিতে সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করল প্রশাসন। অযোধ্যার জেলাশাসক অনুজ কুমার ঝা বলেছেন, ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। ৪ জনের বেশি মানুষ একসঙ্গে জমায়েত করতে পারবেন না। আগামী ডিসেম্বর মাসের ১০ তারিখ পর্যন্ত অযোধ্যায় জারি থাকবে ১৪৪ ধারা। জেলাশাসক জানিয়েছেন, সামনে দীপাবলি। তা ছাড়াও অযোধ্যার বিতর্কিত জমি নিয়ে রায় দিতে পারে সুপ্রিম কোর্ট। সেইদেক খেয়াল রেখেই ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

অযোধ্যা বিতর্ক দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। বিষয়টি এই মুহূর্তে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। আগামী মাসের ১৭ তারিখে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের পক্ষ থেকে রায় ঘোষণা করার কথা। রবিবার অযোধ্যা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সেই অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষণার পরেও তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে অযোধ্যায় জারি থাকবে ১৪৪ ধারা।

সোমবার ১৪ অক্টোবর অযোধ্যা নিয়ে শুনানি একেবারে শেষ পর্যায়ে পৌঁছতে পারে। কেননা দশেরার এক সপ্তাহ ছুটির পর সুপ্রিম কোর্টে অযোধ্যা নিয়ে শুনানি শুরু করবে। ৩৮ তম দিনের শুনানি হবে সোমবার। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সাংবিধানিক বেঞ্চ ৬ অগাস্ট শুনানি শুরু করেছিল। মধ্যস্থতার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর এই শুনানি শুরু করা হয়। তারপর থেকে প্রতিদিনই এই শুনানি চলছে। অযোধ্যা নিয়ে শুনানির শেষ দিন ধার্ষ করা হয়েছে ১৭ অক্টোবর।১৮ নভেম্বর নাগাদ শীর্ষ আদালত তাদের রায় জানাতে পারে।

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বাবরি মসজিদ। সেই ঘটনার পরবর্তী সময়ে দাঙ্গাতে মারা যান প্রায় ২ হাজার জনেরও বেশী সাধারণ মানুষ। যা নিয়ে আইনি লড়াই এখনও চলছে। এটি এমন এক ঘটনা যা বদলে দিয়েছিল ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রকে। এই মামলায় মধ্যস্থতা করার জন্য সুপ্রীম কোর্ট আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আর সেই মত অনুযায়ী প্যানেল তৈরি করা হয়েছিল।

এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা এখনও চলেছে। আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত জানিয়েছিলেন ওখানে মন্দির বানাতেই হবে আর সেদিন আর বেশীদিন দেরী নেই। এছাড়া আর্ট অফ লিভিং খ্যাত শ্রী রবিশঙ্কর মন্তব্য করেছিলেন, মুসলমানদের অধিকাংশই রাম মন্দিরের বিরুদ্ধে নন। যা নিয়ে পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়া তীব্র বিরোধিতা করেছিল। তবে আরএসএসের মুখ খোলা নিয়ে বোঝা গিয়েছিল এই বিষয় নিয়ে তারা আর কোন রকম দেরী চায় না। জোরকদমে তারা যে ময়দানে নামার জন্য প্রস্তুত তা বোঝা গিয়েছিল আগেই। এছাড়া উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ মন্তব্য করেছিলেন মন্দির তৈরির বিকল্প পথ নিয়ে। বিজেপির রাম মন্দির ইস্যু নিয়ে বিরোধীরাও সুর চড়িয়েছিলেন।