কাজের প্রলোভন দেখিয়ে বিক্রি করে দেবার অভিযোগ দিদির জা-য়ের বিরুদ্ধে

188

উৎপল রায়,ধূপগুড়িঃ এক তরুণীকে ফুসলিয়ে নিয়ে গিয়ে টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেবার অভিযোগ তারই নিজের দিদির জা-য়ের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে, ধূপগুড়ির ব্লকের কাঠুলিয়া গ্রামে।

প্রসঙ্গত, গত চারমাস আগে শিলিগুড়ির এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যায় ওই তরুণী। সেখানেই আলাপ হয় ওই মহিলার সাথে। এরপরই সেখান থেকেই তাকে দিল্লিতে নিয়ে যায় ওই মহিলা এমনটাই অভিযোগ করেন ওই তরুনী।

এবিষয়ে ওই তরুণী বলেন, সুনিতা ওরাও নামে ওই মহিলা তাকে সামনে কোথাও ঘুরতে যাবার নাম করে ট্রেনে চরিয়ে শিলিগুড়ি নিয়ে যায়। এরপর সেখান থেকে সোজা  তাঁকে নিয়ে দিল্লির আনন্দবিহারে যায় | শুধু তাই নয়, ওই তরুণীর  নিজস্ব মোবাইলটিও নিয়ে নেয় সুনিতা এমনটাই অভিযোগ করে নিগৃহিতা ওই তরুনী । পাশাপাশি ওই মহিলা তরুণীকে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেয়, সেই পরিস্থিতি তরুণী ভ্রুনাক্ষরে জানতে পারেনি। ঘটনার দু দিন পরে ওই মহিলা ফিরে না এলে তার মনে সন্দেহ তৈরি হয়।

তরুণী আরও অভিযোগ করে বলেন, যে বাড়িতে তাকে বিক্রি করে সেই বাড়ির মালিক তাকে বিভিন্ন ধরনের কাজ করাতে বাধ্য করার পাশাপাশি তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও অত্যাচারও চালাত। কিছুদিন যাবার পর সে কাজ করতে না চেয়ে বেঁকে বসে।

তখন বাড়ির মালিক ওই তরুনীকে জানায়, তাকে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে কিনে নিয়েছেন তারা। এই শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে ওই তরুণী । সেখানে চার মাস ধরে আটকে রাখা হয় তাঁকে বলেও জানায় সে। বাড়ির মালিক পরিকল্পনা করে অন্য জায়গায় বিক্রি করে দেওয়ারও অভিযোগ তুলে ওই তরুণী।

ঘটনার কথা আন্দাজ করতে পেরে, সে বুদ্ধি করে এক প্রতিবেশীর মোবাইল  মারফত বাড়িতে ফোন করে গোটা বিষয়টি জানায়। এরপরই পরিবারের লোকেরা তৎপর হয় তাঁকে উদ্ধার করার জন্য। প্রথমে পরিবারের লোকজন ধুপগুড়ি থানায় যোগাযোগ করে গোটা ঘটনা বিবরণ দেয়।সেখান থেকে কোনো সহযোগিতা না পাওয়ায় এরপরে জলপাইগুড়ি সাংসদ জয়ন্ত রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে তরুনীর পরিবার।

অবশেষে সাংসদ জয়ন্ত রায় দিল্লির সাংসদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে সেখানকার পুলিশ প্রশাসনের সাথে কথা বলিয়ে দেন ওই তরুনীর পরিবারের সদস্যদের সাথে । এরপরেই পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে সেই তরুণীকে উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে মুক্ত করে প্রথমে তাঁকে রাখা হয় একটি হোমে। পরে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কাগজ প্রক্রিয়া শেষ হলে ওই তরুণীকে তুলে দেওয়া হয় পরিবারের হাতে।