দিদি পেত্নী,চরিত্রে দোষ আছে’, মমতাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ বিজেপি নেত্রীর

638

ওয়েব ডেস্ক,৩০ ডিসেম্বরঃ রবিবার সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের সমর্থনে বাঁকুড়ার ওন্দায় সভা করতে গিয়ে নজিরবিহীন ভাষায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় বিঁধলেন বিজেপির রাজ্য সহ-সভানেত্রী রাজকুমারী কেশরী। তিনি বলেন ‘দিদি পেত্নি, দিদির চরিত্রের দোষ আছে’। এই ভাষার আবার ব্যখা করে তিনি আবার বলেন মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি যথাযথ বিশেষণই প্রয়োগ করেছেন তিনি। এই কটাক্ষের তীব্র নিন্দা করেছেন স্থানীয় তৃনমূল নেতৃত্ব। তাঁদের প্রতিক্রিয়ায় কু-কথায় ডক্টরেট করে ফেলেছেন বিজেপির নেতানেত্রীরা। এর প্রভাব পড়বে বিজেপির ভোটবাক্সে।

রাজ্যের শাসকদল যেমন ক্যা ও এনআরসি বিরোধী আন্দোলন ছড়িয়ে দিয়েছে জেলায় জেলায়, তার পালটা হিসেবে বিজেপিও প্রতিটি প্রান্তে শুরু করেছে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের সমর্থনে সভা, মিছিল। বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর লোকসভার রতনপুর অঞ্চলে রবিবার ক্যা ও এনআরসি-র সমর্থনে বিজেপি সভার আয়োজন করেছিল। তাতে যোগ দিতে গিয়ে রাজ্যের সহ-সভানেত্রী রাজকুমারী কেশরী মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে ‘পেত্নি’ বলে সম্বোধন করেন।

তিনি আরও বলেন, ”বাংলার মাটিতে কোনও গরিমা নেই, এমন একজন মুখ্যমন্ত্রী হয়ে ঘন্টা বাজাচ্ছেন। এবং ক্যা ক্যা করছেন। উনি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যই নন।” রাজকুমারী কেশরীর আরও বলেন, ”২০০৫ সালে যিনি সংসদে দাঁড়িয়ে স্পিকারের দিকে কাগজ ছুঁড়ে ‘এনআরসি’ চাই বলেছিলেন, আর আজ দিদির কী এমন হয়ে গেল যে উলটে গেলেন? ওনার চরিত্রেরও দোষ আছে।”

সভা শেষে তিনি আবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, তখনও নিজের বক্তব্যের সমর্থনে বিজেপি নেত্রী বলেন যে তিনি যথাযথভাবেই ওসব বিশেষণ প্রয়োগ করেছেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে রাজকুমারী কেশরীর এমন নজিরবিহীন ভাষাপ্রয়োগে স্বভাবতই অত্যন্ত ক্ষুব্ধ স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। বিষ্ণুপুরের সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামল সাঁতরার প্রতিক্রিয়া, ”বিজেপি নেতানেত্রীরা কুকথায় পিএইচডি করেছেন। সাধারণ মানুষও তা বুঝেছেন ঝাড়খণ্ডের ফলাফলে। আগামী দিনে এর প্রভাব পড়বে ওদের ভোটবাক্সে।” এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ’র স্ত্রী সুজাতা। প্রায় ১০০ জন সিপিএম ও তৃণমূল সমর্থক বিজেপিতে যোগদান করেছেন।