গঙ্গাপ্রসাদ শর্মার দলত্যাগের ছয় মাস বাদেও আলিপুরদুয়ারে জেলা সভাপতিহীন বিজেপি, পুর ভোটের মুখে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা

416

বিশেষ প্রতিনিধি, ১ ডিসেম্বরঃ প্রায় ছয় মাস আগে আলিপুরদুয়ারে বিজেপির তৎকালীন জেলা সভাপতি গঙ্গা প্রসাদ শর্মা দল বদল করে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন। সেই থেকে কার্যত জেলা সভাপতি ছাড়াই আলিপুরদুয়ারে বিজেপির সংগঠন পরিচালিত হচ্ছে। ইতিমধ্যেই রাজ্য নির্বাচন কমিশন এপ্রিল মাসের মধ্যে সমস্ত পুরসভাতেই ভোট করানোর সিধান্ত নিয়েছে। এই অবস্থায় জেলা সভাপতিহীন আলিপুরদুয়ারে বিজেপিকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে বলে দলের নীচু তলার কর্মীদের একাংশ মনে করছেন।

যদিও বিজেপি নেতৃত্ব জেলা সভাপতি না থাকার জন্য সংগঠনে কোন প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন না। নেতৃত্বের অনেকেই জানিয়েছেন, গঙ্গা প্রসাদ শর্মা দলত্যাগের পর ভূষণ মোদককে আহ্বায়ক করে সংগঠন পরিচালিত করা হচ্ছে। এছাড়াও বিধায়ক সাংসদরাও সাংগঠনিক বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন। কাজেই জেলা সভাপতি না থাকায় সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়া তৃণমূলের অপপ্রচার ছাড়া আর কিছুই নয় বলে বিজেপি নেতৃত্বের অনেকেই মনে করছেন।

বিজেপি নেতৃত্ব এমনটা দাবি করলেও সাম্প্রতিক কালে আলিপুরদুয়ারে তাঁদের সাংগঠনিক শক্তি অনেকটা কমেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর গোটা রাজ্যের সাথে আলিপুরদুয়ারেও বিজেপির অনেক গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য, প্রধান, মণ্ডল ও জেলা স্তরের একাধিক নেতৃত্ব দলবদল করে রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূলের সাথে যুক্ত হয়েছেন। গত লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে নীচু তলার যে সমস্ত কর্মীদের সক্রিয় ভাবে কাজ করতে দেখা গিয়েছিল, তাঁদের অনেকেই এখন আর সেভাবে সক্রিয় নয়। এই অবস্থায় সাংগঠনিক শক্তি যে হ্রাস পেয়েছে, তা নীচু অনেক নেতা কর্মী স্বীকার করে নিয়েছেন।

জানা গিয়েছে, এবছর ২০ জুন গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন। ২২ জুন আলিপুরদুয়ারে বিজেপির আদি মুখ হিসাবে পরিচিত দলের প্রাক্তন জেলা সাধারণ সম্পাদক তথা রাজ্য কমিটির সদস্য এবং দার্জিলিং জেলার পর্যবেক্ষক সম্রাট দে দলের সমস্ত রকম পদ থেকে ইস্তফা দেন সেই থেকে তাঁকে আলিপুরদুয়ারের বিজেপির কোন কর্মসূচিতে তাঁকে দেখা যায় নি বলেও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের দাবি। এই অবস্থায় আসন্ন পুরসভা নির্বাচনে আলিপুরদুয়ারে বিজেপিকে যে অনেক বেশী লড়াইয়ের মুখে পড়তে হবে, তা বলা যেতেই পারে।