মেখলিগঞ্জে জমির লোভে বৃদ্ধা মাকে অত্যাচারের অভিযোগ ছেলে ও বৌমার বিরুদ্ধে

45

মেখলিগঞ্জ, ৩ অক্টোবরঃ বয়স সত্তরের বৃদ্ধা, স্বামীর মৃত্যুর পর সামান্য তিন বিঘা জমিকে আঁকড়ে ধরে রয়েছেন তিনি৷ আর সেই জমির লোভে বৃদ্ধা মায়ের ওপর শারীরিক এবং মানসিক অত্যাচার করত ছেলে এবং ছেলের বউ৷ এমনকি বৃদ্ধা মাকে প্রাণে মারার হুমকি দেন অভিযুক্ত পূত্র এবং পূত্র বধূ বলেও অভিযোগ৷ সুবিচারের আসায় এমনই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন থানায়৷ ঘটনাটি কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ ব্লকের ভোটবাড়ি গ্রামের৷ বৃদ্ধার নাম সুশিলা রায় (৭০),স্বামীর নাম উমেশ রায় (মৃত )৷ অভিযুক্ত পূত্র এবং পূত্র বধূর নাম কমল রায় ও ঝর্ণা রায়৷

জানা গেছে, প্রায় ৪ বছর ধরে ওই বৃদ্ধার সামান্য সম্পত্তির লোভে তার ছেলে এবং বৌমা খেতে দিত না, দিনের পর দিন বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করত৷ ছেলে এবং বৌমার অত্যাচারে বৃদ্ধ বয়সে অন্যের বাড়িতে বাড়িতে আশ্রয় নিত। প্রতিবেশী এবং আত্মীয়দের বাড়িতে কোন ক্রমে খাবার খেত৷ কখন আত্মীয়, কখনো প্রতিবেশীদের কাছে নিত খাবার এবং আশ্রয়ের৷ এভাবে কয়েক বছর নিজ বাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে ফের এক সপ্তাহ আগে পুত্রের কাছে নিজবাড়িতে  আশ্রয়ের জন্য গেলে আবার মারধোর করে তাড়িয়ে দেন ছেলে এবং ছেলের বৌ ৷ শেষ পর্যন্ত তিনি আইনের দারস্থ হন৷

গত সাতদিন আগে নিজ বাড়ি গেলে সেখানে তার ওপর মারধোর করা হয় বলে অভিযোগ ৷ যদিও, গ্রামের সালিশী সভায় কোন সুবিচার পায়নি ওই বৃদ্ধা৷ আজ বাধ্য হয়েই ছেলে এবং ছেলের বৌ এর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মেখলিগঞ্জ থানায় ৷

বৃদ্ধা সুশীলা রায় জানান “কোন মা চায়না সন্তানের ক্ষতি হৌক ,কিন্তু ছেলে যদি না বোঝে তাহলে কি করবো ! বাধ্য হয়ে থানায় অভিযোগ জানাই৷

অভিযুক্ত ছেলের স্ত্রী ঝর্ণা রায় অবশ্য পাল্টা বক্তব্য ছুড়ে দেন। তিনি বলেন,  “সব তো ঠিকই আছে, ছেলে মা একটু রাগারাগি হত ঠিকই কিন্তু কোন মারধোর করা হয়নি৷ সম্পত্তি না পেলে কেন তাড়িয়ে দেবো।তাছাড়া শাশুড়ি মা মারা গেলে আমরাই তো সেগুলো পাবো ৷ মারধোর এবং প্রাণে মারার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ৷