পুজোতে মন ভালো নেই সোনামুখীর তাঁত শিল্পীদের

22

নরেশ ভকত, বাঁকুড়াঃ আর হাতে গোনা মাত্র কয়েকটা দিন, পুজো আসছে। কিন্তু এতো সবের পরেও ব্যস্ততা নেই বাঁকুড়ার সোনামুখীর তাঁত শিল্পীদের মধ্যে। কেননা এবার তেমন একটা চাহিদা নেই সোনামুখী সিল্কের। শাড়ির জগতে এই জেলার বিষ্ণুপুর যেমন বিখ্যাত বালুচরীর জন্য, তেমনি সোনামুখীর সিল্ক আর তসরের শাড়ির খ্যাতি বিশ্বজোড়া। কিন্তু এতো সবের পরেও এবার পুজোর আগে শিল্পীদের মন ভালো নেই।

বঙ্গ নারীর চিরাচরিত ঐতিহ্যের সঙ্গে শাড়ির বিশেষ যোগসূত্র রয়েছে। সারা বছর আরামদায়ক পছন্দ সই পোশাক অনেকেই পরলেও পুজোর দিন গুলিতে শাড়িই থাকে প্রথম পছন্দের তালিকায়। কিন্তু এতোসবের পরেও সোনামুখীর তাঁত শিল্পীদের ঘরে লাভের টাকা ঢুকছে কই! শাড়ি তৈরীর মূল কাঁচামাল রেশম কেনার সামর্থ্য অনেক শিল্পীর নেই। ফলে ভরসা সেই মহাজন। সেকারণে এখনো এখানকার অধিকাংশ তাঁত শিল্পী মহাজনের হাত থেকে বেরোতে পারেননি। ফলে সামান্য মজুরিতেই তাদের কাজ করতে হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে এই পেশায় যুক্ত রবিলোচন হেঁস বলেন, এবার পুজোয় চাহিদা তেমন নেই। আর চাহিদা থাকলেও তাদের লাভ খুব বেশী ছিলনা। লাভের অঙ্ক পুরোটাই যায় মহাজনের ঘরে। গড়ে তিন-চারশো টাকার বেশী রোজগার তাদের হয়না। তারা প্রত্যেকেই আর্থিক অনটনের মধ্যে যাচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, সংসার খরচ চালাতে গিয়ে অধিকাংশ শিল্পীরই এখন ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা ঋণের বোঝা মাথায় চেপেছে। আগে পুজোর আগে প্রত্যেক তাঁত শিল্পী বোনাস পেতেন, এখন সেসব বন্ধ বলেই তিনি জানান।

এবার পুজোয় সোনামুখী সিল্কের চাহিদা ‘খুব একটা বেশী নেই’ জানিয়ে শিল্পী সমীর দত্ত বলেন, দেশে জিএসটি চালু হওয়ায় তারা সমস্যায় পড়েছেন। একই সঙ্গে আর্থিক সঙ্গতি না থাকার কারণে মহাজনী খপ্পরে পড়ে তারা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে তিনি জানান। সব মিলিয়ে পুজোর আগে ভালো নেই সোনামুখীর বিখ্যাত সিল্ক শিল্পের যুক্ত মানুষেরা। সকলেই চাইছেন এই শিল্পকে টিকিয়ে পাশে  এসে দাড়াক সরকার।