এনআরসিকে সামনে রেখে আত্মহত্যার প্ররোচনা দিচ্ছে রাজ্য সরকারঃ নিশীথ প্রামানিক

68

কোচবিহার,২৬ সেপ্টেম্বরঃ এনআরসি আতঙ্কে এরাজ্যে যদি কোনও মানুষের মৃত্যু হয় তবে তার জন্য দায়ী এরাজ্যের শাসকদল। বৃহস্পতিবার কোচবিহার জেলা বিজেপি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একথা বলেন কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ নিশীথ প্রামানিক। তিনি বলেন, এই ইস্যুকে সামনে এনে রাজ্যে অশান্তির বাতাবরণ তৈরি করেছে তৃণমূল। এই ইস্যুতে মৃত্যুজনিত যে অর্থের কথা ঘোষণা করা হয়েছে আসলে তা আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়া। এরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানুষকে আত্মহননের পথ বেঁছে নিতে বাধ্য করছেন। অথচ এনআরসি এরাজ্যের কোনও ইস্যুই নয়।

দিদিকে বলো কর্মসূচিকে সামনে রেখে এনআরসি ইস্যু নিয়ে ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে রাজ্যের শাসকদল। সাধারন মানুষ দিদিকে কিছু বলতে পারছে না। অথচ গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে সাধারন মানুষের উপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করছে তৃণমূলের নেতা কর্মীরা। এনআরসি এরাজ্যের কোনও বিষয়ই নয়। অসম রাজ্যে এনআরসি হয়েছে একটি চুক্তির ভিত্তিতে, আদালতের নির্দেশে। প্রতিবেশী রাজ্যের এই ঘটনাকে সামনে এনে যেভাবে মানুষকে এরাজ্যে ভুল পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে তা অতন্ত দুঃখজনক। অথচ এরাজ্যে এনআরসি চাই বলে যিনি সংসদে প্রথম চিৎকার করেছিলেন তিনি হলেন মমতা ব্যানার্জি।

এরাজ্যের একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষকে তাড়াতে চেয়েছিলেন তিনি। আজ তিনিই ছিচকাঁদুনি গাইছেন। একই সাথে নিশীথ প্রামানিক এদিন বলেন যে কোনও উন্নত দেশের মতো ভারতেও নাগরিকপুঞ্জি তৈরি হওয়া উচিৎ। সেক্ষেত্রে সব জাতির মানুষেরাই এদেশের নাগরিক হিসাবে গণ্য হবে। একই সাথে তিনি অভিযোগ করে বলেন, রাজ্য সরকারের মদতে রহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঘটছে পশ্চিমবঙ্গে। যারা এখানে অশান্তি পাকাতে চাইছে। সে বিষয়ে আমাদের সর্তক থাকতে হবে।

লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর পায়ের তলার মাটি হারিয়েছে তৃণমূল। তাই রাজনৈতিক ভাবে কোনও ইস্যু না পেয়ে এনআরসি জুজু দেখিয়ে মানুষকে ভীত ও সন্ত্রস্ত করে রাখার প্রয়াস কখনই সফল হবে না বলে দাবী নিশীথবাবুর। এবিষয়ে মানুষকে সাহস জোগাতে এবং তাদের পাশে থাকার কথাও ঘোষণা করেন তিনি।