রাষ্ট্রপতির বক্তৃতার সময় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে হিজাব পরে ঢুকতে না দেওয়ায় সোনার মেডেল প্রত্যাখ্যান করলেন ছাত্রী

338

ওয়েব ডেস্ক, ২৪ ডিসেম্বরঃ নগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিলেন পন্ডিচেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস কমিউনিকেশনের ছাত্রী রাবিহা আব্দু রেহিম। তারই খেসারত দিতে হল তাঁকে। রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের বক্তৃতার সময় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ঢুকতেই দেওয়া হল না তাকে। এই ঘটনার প্রতিবাদে নিজের প্রাপ্য সোনার মেডেল প্রত্যাখ্যান করলেন ওই ছাত্রী।

জানা গেছে, গতকাল পুদুচেরি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে হিজাব পরে সমাবর্তনে যোগ দাওয়া যাবে না, এমনি কথা বলা হয় গোল্ড মেডেলিস্ট ছাত্রী রাবিহা আব্দু রেহিমকে। অভিযোগ তাঁকে হিজাব খুলে প্রবেশ করতে হবে বলা হয়। স্নাতকোত্তরে ভাল ফল করায় সোনার মেডেল পাওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু অনুষ্ঠান শুরুর আগেই তাঁকে বাইরে ডেকে নিয়ে যান এক পুলিশকর্মী।

রাবেহার অভিযোগ, পুলিশের স্পেশ্যাল সুপারিন্টেনডেন্ট তাঁকে ডেকে বলেন “আপনার সঙ্গে কিছু কথা আছে। বাইরে আসুন।“ ছাত্রীর দাবি এরপর প্রায় ঘণ্টাখানেক হলের বাইরেই দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। তবে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে আসেননি কোনও পুলিশকর্মী। বাইরে থেকে ততক্ষণে রাবেহা বুঝতে পারেন রাষ্ট্রপতির বক্তৃতা শুরু হয়ে গিয়েছে। কেন তাঁকে ভিতরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না এই প্রশ্ন করায় অন্য এক পুলিশকর্মী বলেন, সঠিক কারণ তাঁদের জানা নেই। তবে এসএসপি এমনটাই চেয়েছেন। তাঁর আরও অভিযোগ, এরপরেই পুলিশকর্মীরা নিজেদের মধ্যে ফিসফিস করে কথা বলতে শুরু করেন। আমার দিকে সন্দেহের চোখে তাকাতে শুরু করেন। জানি না কী এমন হয়েছিল যে আমায় অনুষ্ঠানে ঢুকতেই দেওয়া হল না। হয়তো আমি নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছিলাম তাই এমনটা হয়েছে আমার সঙ্গে।

উল্লেগ্য, ২০১৮-র ব্যাচের ওই পড়ুয়ার কথায়, রাষ্ট্রপতি আসার খানিক আগেই সে অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করতে গিয়েছিল। নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে বাধা দেয়। বলা হয়, হিজাব খুলে না এলে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া যাবে না। নিরাপত্তারক্ষীদের প্রস্তাবে রাজি হননি রাহিবা। রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর তাঁকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ মেধাবী ছাত্রীর। রাহিবা বলেন, “আমার সঙ্গে যে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে, তার প্রতিবাদে আমি পদক নিতে অস্বীকার করি। নিরাপত্তারক্ষীরা আমাকে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ঢুকতে বাঁধা দেয়। ওরা সন্দেহের চোখে দেখছিল আমাকে। যেন আমি কিছু একটা করার উদ্দেশ্যে ঢুকতে চাইছি। জানি না, ওরা কী ভাবছিল।”