প্রেমে হোঁচট ও পরীক্ষার চাপে আত্মঘাতী তুফানগঞ্জে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী

1101

মনিরুল হক, কোচবিহারঃ জীবন আসলে বেশ কয়েকটি সম্পর্ক দিয়ে গড়া। প্রেম সেই সম্পর্ক গুলোর অন্যতম। কিন্তু প্রেমের পথ তো সকলের জন্য সমান নয়। এতে অনেকেই মানসিক ভারসাম্য পর্যন্ত হারিয়ে ফেলে। ফলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভবনার বদলে সৃষ্টি হয় নানা প্রতিবন্ধকতার। এতে অনেকেই আত্মহত্যার মতো পথ বেছে নেয়। এমনি এক প্রেমে প্রত্যাখ্যানের ঘটনা ঘটল তুফানগঞ্জ ২নং ব্লকের অন্দরানফুলবাড়ি এলাকায়। তার জেরেই বাড়ির পাশে সেগুন গাছের ডালে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে উচ্চমাধমিক পরীক্ষার্থী টুম্পা। 

জানা গেছে, টুম্পা দাস নামে ওই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী অন্দরানফুলবাড়ি ২নং গ্রাম পঞ্চায়েতের এলাকার প্রেমিক সুদর্শন দাশের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই ভালবাসার মানুষটাকে আঁকড়ে বাঁচতে চেয়েছে টুম্পা। কিন্তু একদিকে পরীক্ষার চাপ, অন্যদিকে ভালবাসার মানুষকে হারানোর ভয়। সব মিলে যেন মানসিক চাপে বিধ্বস্ত প্রেমিকা টুম্পা। যাকে নিয়ে মনের প্রকোষ্ঠে স্বপ্নের বাসা বেঁধেছিল টুম্পা। সেই ভালবাসার মানুষটি তার মর্যাদা দিতে পারল না। তখন বেঁছে থেকে কি লাভ ! উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা, বাবা ও মা এদের থেকেও টুম্পার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল সুদর্শনের সেই ভালোবাসা। কিন্তু সেই সুদর্শন যখন তার ভালবাসাকে প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছে। সেই অভিমানে সুইসাইট নোট লিখে শেষমেষ আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় টুম্পা।

মৃত টুম্পার বাবা মাধব দাস বলেন, কত স্বপ্ন ছিল মেয়ে পড়াশুনা করে পরিবারের নাম উজ্জ্বল করবে। কিন্তু সে স্বপ্নটা স্বপ্নই রয়ে গেল। ছোট মেয়েকে হারিয়ে একেবারে দিশেহারা টুম্পার বাবা ও মা। তিনি আরও বলেন, প্রেমের সম্পর্কে প্রত্যাখ্যানের জেরেই মৃত্যু হয়েছে তার মেয়ের। মেয়ের প্রেমিকের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি বাবা হিসেবে অভিযুক্তের আইনানুগ শাস্তি দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার ভোরে বাড়ির পাশে একটি সেগুন গাছের ডাল থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় টুম্পার নিথর দেহ। পরে টুম্পার ঘর থেকে তার বইয়ের মধ্যে মৃত্যুর আসল কারণ জানতে পারে পরিবার। ওই ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে বক্সিরহাট থানার পুলিশ। পরে পুলিশ টুম্পার মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। পরে ওই সুইসাইট নোট পুলিশের হাতে তুলে দেয় পরিবারের লোকজন। মৃতের পরিবারের লোকজন ইতিমধ্যে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে থানায় ।   

এবিষয়ে টুম্পার দাদা অপূর্ব দাস জানান, আমার বোন টুম্পার সাথে অন্দরানফুলবাড়ি ২নং গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার সুদর্শন দাস নামে এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আমরা কিছু জানতাম না। বোনের লেখা সেই সুইসাইড নোট সামনে উঠে এলে তা থেকে আমরা জানতে পারি। তাদের মধ্যে শারীরিক ও মানসিক সম্পর্ক দুটোই ছিল। সেই সাথে বেশ কিছুদিন থেকেই তাদের এই প্রণয়ের সম্পর্কে ভাটা পড়েছিল বলেও জানা গিয়েছে। তারপর টুম্পা এই আত্মহত্যার পথ বেঁছে নেয় বলে মনে করছে পরিবারের লোকজন।