বিতর্কিত অযোধ্যা মামলা নিয়ে অবস্থান বদল সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের!

1415

ওয়েব ডেস্ক, ১৮ অক্টোবরঃ বিতর্কিত অযোধ্যার বাবরি মসজিদ মামলায় এবার নতুন মোড়।  নিজের অবস্থান থেকে সড়ে দাড়াল সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড। শুক্রবার সংবাদমাধ্যমে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের পক্ষে আইনজীবী এজাজ মকবুল বলেন, ‘সমস্ত সংবাদ পত্রিকা ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ড তাদের দাবি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। হয় মধ্যস্থতাকারীরা নয়ত নির্বানী আখড়া’র তরফে খবরটি ফাঁস করা হয়েছে।’

এদিন সমস্ত তথ্যকে ভিত্তিহীন বলে আইনজীবী এজাজ মকবুলের বক্তব্য চলতি পরিস্থিতিতে কখনওই মধ্যস্থতা সম্ভব নয়। হিন্দু সংগঠনগুলির ওপর দায় চাপিয়ে আইনজীবী বলেন, সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড ছাড়া সমস্ত মুসলিম দলগুলিই মধ্যস্থতায় রাজি নয়। হিন্দু সংগঠনগুলিও খোলাখুলি সেই বার্তাই দিয়েছে। 

একটি সূত্র মারফৎ জানা যাচ্ছে, বিতর্কিত রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদের জমি সংক্রান্ত মামলার শুনানি শেষ হওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চে মীমাংসা সূত্র (সেটলমেন্ট) পেশ করেছে আদালত নিযুক্ত মধ্যস্থতাকারী প্যানেল। যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার যদি জমি অধিগ্রহণ করে, তাহলে আপত্তি থাকবে না সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ডের। পরিবর্তে তাদের জন্য নতুন মসজিদ গড়ে দিতে হবে। পাশাপাশি অযোধ্যার মসজিদগুলি সংস্কার করতে হবে, যেখানে নমাজ পাঠ করা যাবে। এমন শর্তেই বিতর্কিত জমির উপর থেকে দাবি ছাড়তে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড রাজি বলে জানা যাচ্ছে।

জানা যাচ্ছে, এ বিষয়ে রফাসূত্র বের করতে প্রায় একমাস সময় লেগেছিল। দিল্লি ও চেন্নাইয়ে এ নিয়ে ২-৩টি বৈঠক হয়। তবে জমি নিয়ে আপত্তি তুলে নেওয়ার কথা তাঁরা জানাননি বলে দাবি করেছেন সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের আইনজীবীরা। যদিও বুধবার দিনভর এ খবর ছড়ায় যে, নিজেদের অবস্থান থেকে সরে এসেছে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড।

প্রসঙ্গত, রাম জন্মভূমিতেই কি বাবরি মসজিদ গড়ে উঠেছে? বহু বিতর্কিত সেই মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষ হয়েছে। আগামী মাসেই রায় দেওয়ার সম্ভাবনা। তার আগে বাবরি মসজিদ বিতর্কিত জমি মামলায় লাগাতার শুনানির আগে মধ্যস্থতাকারী একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছিল শীর্ষ আদালত।

কিন্তু সেখানেও তাঁরা মধ্যস্থতা আনতে ব্যর্থ হন। একটি সূত্রের খবর, সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড, নির্বানী আখড়া, নির্মোহী আখড়া, রাম জন্মভূমি পুনরুদ্ধার সমিতি ও বেশকিছু হিন্দু সংগঠন মধ্যস্থাতায় রাজি হয়েছিল। কিন্তু মামলায় যুক্ত থাকা অন্যান্য মুসলিম সংগঠনের নেতৃত্বরা দ্বিমত পোষণ করেছিলেন। ফলে নিরপেক্ষ মধ্যস্থতা করতে পারেননি বিশিষ্ট জনেরা।