অসমের এনআরসি-র কো-অর্ডিনেটরকে সড়িয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট

1403

ওয়েব ডেস্ক, ১৮ অক্টোবরঃ অসমে এনআরসি-র কোঅর্ডিনেটর প্রতীক হাজেলাকে মধ্যপ্রদেশে বদলি করল সুপ্রিম কোর্ট। বদলির কারণ জানয় নি দেশের শীর্ষ আদালত। অসময়ে তাকে এরাজ্যে থেকে কেন সরানো হল তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

জানা গেছে, নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর রাজ্যের শাসকদল থেকে শুরু করে নানা সংগঠনগুলি আক্রমণ শানিয়েছে হাজেলার বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ষড়যন্ত্র করে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নাগরিকত্ব প্রদান করেছেন এনআরসি কোঅর্ডিনেটর।

অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বনন্দ সনোওয়াল, ‘কিং মেকার’ হিমন্ত বিশ্বশর্মাও হাজেলার ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত জল্পনা উসকে দিয়েছে সারা দেশ জুড়ে। এদিন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের একটি ডিভিশন বেঞ্চ হাজেলার অপসারণের নির্দেশ দেয়।

প্রসঙ্গত,ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেন্স অর্থাৎ এনআরসি মানে এটি রাজ্যেরর বৈধ নাগরিকদের তালিকা৷ প্রথমবার এই তালিকা তৈরি হয় ১৯৫১ সালে৷ ২০১৪ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে এই তালিকা নবীকরণের কাজ শুরু হয়৷ ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের আগে অসমে আসা ব্যক্তি ও তাঁদের বংশধরদের নামই এনআরসিতে উঠবে বলে জানানো হয়৷ ২০১৫ সালে এনআরসি নবীকরণের কাজ শুরু হয়৷ কয়েক দফায় তারিখ পিছোনোর পরে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রথম খসড়া প্রকাশিত হয়৷ দ্বিতীয় খসড়া তালিকা প্রকাশিত হয় ৩০ জুলাই ২০১৮ সালে৷

এই দ্বিতীয় তালিকায় ৪০ লক্ষের নাম ওঠেনি। আফগানিস্তান, ইরাক বা সিরিয়ার মতো গৃহযুদ্ধ নেই। অথচ, কলমের খোঁচায় আচমকাই নাগরিকত্ব হারানোর মুখে ৪০ লক্ষ মানুষ। অসমের খসড়া নাগরিকপঞ্জি-তে ৪০ লাখ মানুষের নামের পাশে লালকালির দাগ৷ নাগরিক পঞ্জিতে নাম তোলার জন্য আবেদন করেন ৩ কোটি ২৯ লক্ষ মানুষ৷ তালিকায় প্রকাশিত হয়েছে ২ কোটি ৮৯ লক্ষ মানুষের নাম৷ বাকিরা যাবেন কোথায়? ঘিরে ধরছে অনিশ্চয়তা আর দেশছাড়া হওয়ার।

তারপর চলতি বছরের ৩১ আগস্ট নাগরিকপঞ্জি প্রকাশ হতে দেখা যায়, ৪০ থেকে কমে বাদ পড়েছে ১৯ লক্ষ মানুষের নাম। মধ্যে অধিকাংশই হিন্দু বাঙালি। বাদ পড়েছে ভূমিপুত্র অসমীয়াদের নামও। তারপরই প্রবল সমালোচনার মুখে পড়তে হয় হাজেলাকে।

এক ধাক্কায় অসমের মানুষের কাছে নায়ক থেকে খলনায়ক হয়ে যান তিনি। এনিয়ে রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভের পারদ চড়েছে অনেকটাই। যাদের দাবি মেনে এনআরসি-র প্রক্রিয়ায় কেন্দ্র সায় দিয়েছে, সেই অল অসম স্টুডেন্টস ইউনিয়নই খুশি নয় এই তালিকায়। এনিয়ে অন্তর্দ্বন্দ্ব রয়েছে রাজ্য বিজেপির অন্দরেই। অনেকেই অভিযোগ করছেন, কো-অর্ডিনেটর প্রতীক হাজেলা পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে কাজ করেছেন। এর ভিতরে কোন রহস্য রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের মত।