বিজেপি বিধায়ক মৃত্যুর তদন্ত করবে সিবিআই,কেন্দ্র ও রাজ্যকে নোটিস পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট

108

ওয়েব ডেস্ক, ৬ আগস্টঃ হেমতাবাদের বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়ের মৃত্যুর তদন্ত সিবিআইয়ের হাতেই দেওয়া হোক। তা নিয়ে এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। এখনও পর্যন্ত যা পরিস্থিতি তাতে গতিপ্রকৃতি সেদিকেই চলছে। কারণ, গতকাল এই বিধায়কের মৃত্যুর তদন্ত প্রসঙ্গে একযোগে কেন্দ্র ও রাজ্যকে নোটিস পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট। আর তারপরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তবে কি সিবিআইয়ের হাতেই যাচ্ছে হেমতাবাদের বিধায়কের মৃত্যুর তদন্তভার। যদিও তার সুস্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি।

তবে মনে করা হচ্ছে, এই নিয়ে শীর্ষ আদালত কেন এই নোটিশ পাঠাল, তাহলে কি রাজ্য ও কেন্দ্রের অবস্থান জেনে সিবিআইয়ের হাতেই এই তদন্তভার দিতে চাইছে সুপ্রিম কোর্ট। তা নিয়েই এখন চর্চা বেড়েছে রাজনৈতিক মহলে।

১৩ জুলাই সকালে রায়গঞ্জের বালিয়া থেকে বিধায়কের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর হাত বাঁধা ছিল। পকেটে পাওয়া যায় সুইসাইড নোটও। কিন্তু তাঁর পরিবার দাবি করে যে তাঁকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও বিজেপি ইতিমধ্যেই দাবি করেছে, এই তদন্ত সিবিআইকে দিয়েই করা হোক। তাহলেই সত্য উদঘাটিত হবে।

তবে রাজ্যের দাবি, এই বিধায়ক আত্মহত্যা করেছেন, সিআইডি তদন্তেই সত্য সামনে আসবে। এই নিয়ে মুখ খুলেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। কিন্তু তাতেও এই নিয়ে বিতর্ক থামেনি। এরপর সুপ্রিম কোর্টের এই নোটিশের পর বিতর্ক আরও খানিকটা বাড়ল, তা বলাই চলে।

রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ একই অভিযোগ করে জানান, সম্ভবত রাজনৈতিক কারণেই খুন করা হয়েছে উত্তর দিনাজপুরের এই বিধায়ককে। সিবিআই তদন্তের আর্জি জানিয়ে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন বিধায়কের স্ত্রী। সেই আর্জি খারিজ করে আদালত তদন্তের দায়িত্ব দেয় সিআইডি–কে। মৃতের পরিবার, রাজ্য বিজেপি— কেউই এই রায়ে খুশি ছিলেন না।

এরই মধ্যে বিধায়কের মৃত্যুতে সিবিআই তদন্ত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানান দিল্লির আইনজীবী শশাঙ্ক শেখর ঝা এবং সাংবাদিক স্যাভিও রডরিগ্স। তার ৬ সপ্তাহের মাথায় এ ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিল বিচারপতি অরুণ মিশ্রের বিশেষ বেঞ্চ। দ্রুত তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে পাঠানো হয়েছে নোটিশও।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ জুলাই সকালে বাড়ি থেকে খানিক দূরে চায়ের দোকানে হাত বাঁধা অবস্থায় হেমতাবাদের বিজেপি বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। বছর খানেক আগে দিল্লিতে গিয়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া ওই বিধায়ককে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেই অভিযোগ করে বিজেপি ও মৃতের পরিবারের সদস্যরা। স্বামীর মৃত্যুরহস্য উদঘাটনে সিবিআই তদন্তের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিধায়কের স্ত্রী চাঁদিমা রায়।

কিন্তু চাঁদিমা রায়ের সেই আবেদন খারিজ করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা তথা সিআইডি’র হাতেই তদন্তভার দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। এরপর বিধায়কের মৃত্যুতে সিবিআই তদন্তের আরজি জানিয়ে শীর্ষ আদালতে আবেদন করা হয়। সেই আবেদনের বেশ কিছুদিনের মাথায় সিবিআই তদন্ত প্রসঙ্গে কেন্দ্র-রাজ্যকে এই নোটিশ পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট। যাতেই আশার আলো দেখছে সকলে।