অসমের জাটিঙ্গা পাহাড়ে আত্মহত্যা করতে আসে ঝাঁক ঝাঁক পাখি

106

বিশেষ প্রতিবেদন, ২১ আগস্টঃ   শুধু মানুষ নয়, অন্যান্য প্রানী কুলের মধ্যেও আত্মহত্যার প্রবণতা নাকি রয়েছে। ইঁদুর, ডলফিন, নীল তিমি, কুকুরের মধ্যেও নাকি আত্মহত্যা করার প্রবণতা রয়েছে। আর পাখিরাও নাকি আত্মহত্যা করে। পাখিদের আত্মহত্যা করার প্রবণতা খুব বেশী দূরে নয়, আমাদের প্রতিবেশী রাজ্য অসমের উত্তর কাছার জেলার জাটিঙ্গা পাহাড়ে গেলেই দেখা যায়। সেখানে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি উড়ে এসে আত্মহত্যা করে। পাখিদের এই আত্মহত্যা করার প্রবণতা শুরু হয় প্রত্যেক বছ্র আগস্ট মাস থেকে। চলে নভেম্বর পর্যন্ত। দূরদূরান্ত পর্যটক সেখানে যান পাখিদের আত্মহ্যতা দেখতে। অসম সরকারের পর্যটক বিভাগ সেখানে টাওয়ার করে পর্যটকদের পাখিদের আত্মহত্যা দেখার ব্যবস্থাও করে দিয়েছে। অনেক পক্ষি বিশেষজ্ঞরাও সেখানে গিয়ে পাখিদের এই আত্মহত্যার কারণ খোঁজার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কারুর বক্তব্য নাকি খুব একটা জোড়াল নয়, তাই জাটিঙ্গা পাহাড়ে পাখিদের আত্মহত্যার কারণ এখনও অজানা বলেই মনে করা হয়ে থাকে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা ছোট্ট একটি গ্রাম জাটিঙ্গা। অসমের উত্তর কাছাড় জেলার সদর শহর হাফলং থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে জাটিঙ্গা গ্রাম অবস্থিত। শিলং পাহাড়ের পর শুরু হয় হাফলং পাহাড়ের সারি। স্থানীয় দিমাশি ভাষায় হাফলং শব্দের অর্থ হলো ‘উইপোকার তৈরি করা ছোট পাহাড়’! তবে জাটিঙ্গা শব্দটি দিমাশি ভাষার নয়, শব্দটি জেমে-নাগা উপজাতির। যার অর্থ বৃষ্টির জল বেড়িয়ে যাওয়ার পথ। সেখানে জাটিঙ্গা নামে একটি নদীও রয়েছে। স্থানীয়দের প্রচলিত রয়েছে, প্রায় শতাধিক বছর আগে জেমে-নাগা উপজাতির কিছু লোক জাটিঙ্গা পাহাড়ে কোনো এক কাজে গিয়েছিল। সেখানে তারা একটা জায়গায় বসে আগুন জ্বালিয়ে রাত কাটানোর সময় তারা এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখতে পান,  দলে দলে পাখিরা এসে সেই আগুনে নিজদের আত্মাহুতি দিচ্ছে! জেমে-নাগা উপজাতিরা জাটিঙ্গা পাহাড়ে এখন আর বাস করে না। কারণ তাদের ধারণা জায়গাটা অস্বাস্থ্যকর! জাটিঙ্গায় বর্তমানে বাস করে জৈন্তা উপজাতির লোকেরা। পাখিদের এই আত্মাহুতির বিষয়টিকে তারা ঈশ্বরের দান বলে মনে করে! প্রতি বছরের আগস্ট থেকে নভেম্বর মাসে এ গ্রামে বিভিন্ন ধরনের পাখি এসে দলে দলে আত্মহত্যা করে! অনেক উঁচু থেকে পাহাড়ের দিকে দ্রুত গতিতে নেমে এসে মাটিতে আছড়ে পড়ে। অনেক পাখি মারা যায়। অনেক পাখি আবার ডানা ভেঙে পড়ে থাকে। এক সময় স্থানীয় বাসিন্দারা সেই পাখিদের মাংস বানিয়ে খেয়ে নিত। কিন্তু পরবর্তীতে পক্ষী প্রেমী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের অনেকেই গিয়ে স্থানীয়দের সচেতন করার পর, ওই পাখি গুলোকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু লাভ হয় নি। জল বা অন্য কোন খাবার না খেয়ে মৃত্যুর পথকেই বেছে নেয় তারা।

পক্ষী বিশারদদের মতে, দেশী-বিদেশী পাখি মিলে গড়ে প্রায় ৫০ প্রজাতির পাখি প্রতি বছর জাটিঙ্গায় আত্মহত্যা করে। এদের মধ্যে টাইগার বিটার্ন, ব্ল্যাক বিটার্ন, লিটল এগ্রেট, পন্ড হেরন, ইন্ডিয়ান পিট্টা এবং কয়েক প্রজাতির মাছরাঙা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তবে আশার কথা হচ্ছে সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী পাখিদের আত্মহত্যার সংখ্যা ক্রমশ কমে আসছে।