পৌরসভা নির্বাচনে তৃণমূলে টিকিট বিলির দায়িত্ব টিম প্রশান্ত কিশোরের

6164

ওয়েব ডেস্ক, ২৬ ডিসেম্বরঃ ২০২১-এ তৃণমূল কংগ্রেসকে ফের লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে ২ লক্ষ কর্মী চেয়েছিলেন ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোর। এবার ছোট লালবাড়ি দখলে রাখতেও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা সাজিয়ে ফেলল তৃণমূল কংগ্রেস। প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শ মতোই কলকাতা পুরসভা ও অন্যান্য পুরসভা ভোটে জিততে বুথভিত্তিক রণকৌশলও তৈরি হয়ে গিয়েছে। তৈরি হয়ে গিয়েছে নয়া বাহিনী। তারপর বাংলার ৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফলাফলে গেরুয়া শিবিরকে করে দিয়েছে তৃনমূল।

পাশাপাশি এনআরসি আর সিএএ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে গণ আন্দোলন গড়ে তুলেছেন তার ধারেকাছেও নেই বিজেপির কোনও মিটিং-মিছিলের প্রভাব। এই রেশকে ধরে রেখেই নতুন বছরে পুরনির্বাচনের মুখোমুখি হতে চাইছে রাজ্যের শাসক দল। আর সেই নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হিসাবে কারা টিকিট পাবেন সেটা ঠিক করতে এবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে চলেছে টিম পিকে, মানে প্রশান্ত কিশোরের টিম।

নতুন বছরের এপ্রিল-মে মাসে রাজ্যের শতাধিক পুরসভা ও পুরনিগমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতদিন এই সব নির্বাচনে তৃণমূলে যেভাবে টিকিট বিলি করত সেই পদ্ধতিতে কার্যত দাঁড়ি টেনে দেওয়া হচ্ছে। এতদিন পুরভোটের ক্ষেত্রে দলের প্রতীক বিলির কাজটি দেখতেন দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি। তাঁকে সেই কাজে সহায়তা করতেন দলের জেলা সভাপতিরা। এবার সেই পদ্ধতিতে পরিবর্তন ঘটানো হচ্ছে। তৃণমূল সুত্রে জানা গিয়েছে, এবছরেও সামগ্রিকভাবে প্রতীক চিহ্ন দেওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করবেন রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি নিজেই। কিন্তু কারা সেই টিকিট পাবেন, মানে কারা দলের তরফে প্রার্থী হবেন সেটা ঠিক করে দেবে টিম পিকে।

 ইতিমধ্যেই এই প্রার্থী বাছাইয়ের কাজটা শুরু করে দিয়েছে টিম পিকে। দলের মধ্যে যাদের ভাবমূর্তি স্বচ্ছ, এলাকায় সংগঠক হিসাবে ভালো পরিচিতি রয়েছে, সেই সব মুখগুলিকে খুঁজে বের করার কাজ শুরু করে দিয়েছে টিম পিকে। পুরসভা ধরে ধরে, ওয়ার্ড ধরে ধরে তাঁরা সেই কাজ করে চলেছেন। তার জন্য টিম পিকে’র ছেলেমেয়েরা এলাকায় এলাকায় ঘুরে সাধারন মানুষের সঙ্গে কথা বলে জনসংযোগের কাজ করে চলেছে। তাঁরা মানুষের কাজ থেকে জানতে চাইছে কোন কাউন্সিলর ভালো, কে কেমন কাজ করছে, কার ভাবমূর্তি কেমন এইসব।

শুধু স্থানীয় কাউন্সিলরই নয়, কোনও স্থানীয় তৃণমূল নেতা কেমন, কাকে টিকিট দিলে ভোটাররা ইতিবাচক সাড়া দেবে সেই সব তথ্যও খুঁজে দেখা হচ্ছে। এই সব নিয়ে সামগ্রিক ভাবে যে রিপোর্ট তৈরি হচ্ছে তার ভিত্তিতেই তৈরি হবে শাসক দলের পুরনির্বাচনের প্রার্থী তালিকা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনি জানান, জনসংযোগ কর্মসূচির সঙ্গে এই বুথভিত্তিক টিম তৈরি করা হবে।