শীতলকুচিতে গরু পাচারের ঘটনার প্রতিবাদ করায় কিশোরকে লক্ষ্য করে চলল গুলি,  চাঞ্চল্য

205

কাজল রায়, মাথাভাঙ্গাঃ শীতকাল পড়লেই ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে গরু পাচার বাড়ে। এই সময় সীমান্ত সংলগ্ন চাষের ক্ষেতের উপর দিয়ে গরু পাচার হওয়ায়   ফসল নষ্ট হওয়ার অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায় সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায়। এবার  ধান খেত নষ্ট করে গরু পাচারের ঘটনার প্রতিবাদ করায় কিশোরকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগে উত্তেজনা ছড়ালো এলাকায়। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার শীতলকুচি ব্লকের লালবাজার গ্রাম পঞ্চায়েতের গীদালদহ বড় মরিচা গ্রামের নালারপাড় এলাকার।

এই গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল হকের অভিযোগ, “তারই প্রতিবেশি আজিবুল মিয়াঁ সীমান্তে গরু চোরাকারবারি করে। শনিবার ভোরে তাঁর ধান খেতের উপর দিয়ে গরু পাচার করে এবং ধান খেত নষ্ট করে দেয়। এই ঘটনার প্রতিবাদ করে স্ত্রী জ্যোৎস্না বিবি ও ছেলে হাসিবুল ইসলাম। প্রতিবাদ করার অপরাধে ছেলেকে এদিন সকালে  শাল কাঠের লাঠি দিয়ে মারধর করে এবং ছেলেকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় আজিবুল মিয়াঁ। ভাগ্যক্রমে ছেলেকে গুলি লাগেনি। জারা গুলি চালিয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে শীতলকুচি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।”

অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে যান শীতলকুচি থানার পুলিশ। অভিযুক্ত আজিবুল মিয়াঁকে আটক করতে গেলে স্থানীয় মহিলাদের দাঁড়া আক্রান্ত হয় পুলিশ। এই সময় মহিলা পুলিশ সাথে না থাকায় পিছু হটতে বাধ্য হয় পুলিশ আধিকারিকেরা। অভিযুক্ত আজিবুল মিয়াঁও এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। খবর ছড়িয়ে পরতে স্থানীয়রা জটলা করেন ঘটনাস্থলে। পরে  মহিলা পুলিশ কর্মী সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন শীতলকুচি থানার ওসি মৃত্যুঞ্জয় সরকার। ছত্রভঙ্গ করেন বাসিন্দাদের। এলাকা দখল নেয় পুলিশ। অভিযুক্ত ও সেই বন্দুকের খোজে তল্লাশী শুরু করেন এলাকার প্রতিটি বাড়িতে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে না পারলেও  এলাকা থেকে সাতটি গরু উদ্ধার করে শীতলকুচি থানার পুলিশ। গোটা ঘটনায় দুজন পুলিশ কর্মীও আহত হয়েছে বলে পুলিশ সুত্রে খবর।

এদিন অভিযুক্ত আজিবুল মিয়াঁ পলাতক থাকায় তাঁর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।  তবে তাঁর মামা রফিকুল মিয়াঁর দাবি, “আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। রফিকুল হকের  পরিবারই দুটি বন্দুক নিয়ে ভাগ্নেকে মারতে বেড় হয় এবং দুপক্ষের মধ্যে ঝামেলা হয় এটুকু পরবর্তীতে শুনতে পাই। এদিন অকারণে আমার বাড়ি দুবার তল্লাশির নামে ভাংচুর করেছে পুলিশ।”

এবিষয়ে লালবাজার গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান লিপিকা খাতুন বিবি বলেন, চোরাকারবারিরা ধানের খেত নষ্ট করেছে। তা নিয়েই উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এলাকায়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।

মাথাভাঙ্গা এডিশনাল এসপি অমিত ভার্মা বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়েছে শীতলকুচি থানার ওসি। পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত করছে।