দিনহাটায় ‘অপহৃত’ বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্য যোগ দিল তৃনমূলে

28

দিনহাটা,২২ সেপ্টেম্বরঃ কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামানিকের গড়ে এবার তৃণমূলের থাবা। ভেটাগুড়ি ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েত  ৫ পঞ্চায়েত সদস্য যোগ দিল ঘাসফুল শিবিরে বলে দাবী তৃণমূল নেতৃত্বের। ১০ আসন বিশিষ্ট এই গ্রাম পঞ্চায়েতে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি জয়ের পর সেখানকার ১০ সদস্যই বিজেপিতে যোগদান করে। কিন্তু ৪ মাস যেতে না যেতেই ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫ সদস্য তাদের নিজের দলে ফিরে আসে।

এদিনের এই যোগদান করায় ভেটাগুড়ি ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূলের দখলের আসার সম্ভবনা তৈরি হয়েছে।রবিবার দিনহাটা শহরের আপন ঘরে বিধায়ক উদয়ন গুহর হাত থেকে দলীয় পতাকা তুলে নেন ওই ৫ পঞ্চায়েত সদস্য। যদিও এদের মধ্যে ২ জনকে অপহরণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ আনেন বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপি নেতৃত্ব অভিযোগ করে বলে তাদের দলের দুই পঞ্চায়েত সদস্য উজ্জ্বল ঘোষ ও যতীন্দ্র নাথ বর্মনকে চায়ের দোকান থেকে অপহরণ করেছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা।

এদিকে বিজেপি অভিযোগ নিয়ে  যখন তোলপাড় জেলার রাজনীতি, তখন যাকে অপহৃত করা হয়েছে বলে অভিযোগ সেই যতীন্দ্র নাথ বর্মন তৃনমূলে যোগ দিয়ে  জানান, আমরা তৃণমূলের টিকিতেই জয়ী হয়েছিলাম। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনের পর দলের পরাজয় মেনে নিতে পারচ্ছিলাম না এবং মানসিকভাবেও ভেঙ্গে পরেছিলাম। তাই দিকভ্রষ্ট হয়ে আমরা কিছুদিনের জন্য বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু তৃণমূলের উন্নয়নমূলক কাজ দেখে আমরা উপপ্রধান সহ ৫ পঞ্চায়েত সদস্য স্বইচ্ছায় আবার তৃনমূলে ফিরে এলাম।

‘অপহৃত’ বিজেপির নেতার তৃনমূলে যোগ

এবিষয়ে তৃণমূল নেতা তথা বিধায়ক উদয়ন গুহ বলেন, লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে বিজেপি গোটা ভেটাগুড়ি জুড়ে সন্ত্রাস করছে। পাশাপাশি নির্বাচনে ঘাসফুলের পরাজয়ে তাঁরা মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েছিল এবং দিকভ্রষ্ট হয়ে ওই পঞ্চায়েত সদস্যরা সাময়িক সময়ের জন্য পদ্ম শিবিরে গিয়েছিল। এটা পুনরায় যোগ নয়, এটা নিজের ঘরে ফিরে আসা। বিজেপি চেয়েছিল গোটা ভেটাগুড়িজুড়ে তৃণমূল নিশ্চিহ্ন করে ক্ষমতা দখল করবে কিন্তু তৃণমূল তাদের পুরনো শক্তিকে হাতিয়ার করে মাঠে নেমেছে নিজেদের পুরনো জায়গা ধরে রাখতে।

তৃণমূলের দলে যোগ প্রসঙ্গে জেলার বিজেপি নেত্রী মালতি রাভা বলেন, গোটা ভেটাগুড়ি জুড়ে তৃণমূল সন্ত্রাস চালাচ্ছে। গতকালও ভেটাগুড়ি ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বাড়িতে তাঁরা হামলা চালায়। তৃণমূলের হার্মাদরা আমাদের দুই পঞ্চায়েত সদস্যকে জোর করে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে তুলে নিয়ে যায় পাশাপাশি তাঁরা জোর খাটিয়ে তৃণমূলের পতাকা তাদের হাতে তুলে দেয়। তাঁরা ভয়ে এবং মানসিক ভাবে ভেঙ্গে ওই দলিয় পতাকা গ্রহণ করেছে। কিন্তু আমাদের নামে মিথ্যা অপবাদ রতাচ্ছে তাঁরা। তাঁরা বিজেপি ছিলেন এবং থাকবেন।