৫০০ কোটির বিনিময়ে ঢেলে সাজানো হচ্ছে বাগডোগরা বিমানবন্দর

101

বিশ্বজিৎ সরকার, ১৮ জানুয়ারিঃ কোটি টাকা ব্যয় করে নতুন রুপে সাজানো হবে  বাগডোগরা বিমানবন্দর। জানা গেছে, ইতিমধ্য তার নকশাও প্রায় তৈরি হয়ে  উঠেছে, বাকি আছে শুধু কাজ। পরিকাঠামো বাড়িয়ে নুতুন করে ঢেলে সাজানো হচ্ছে বিমানবন্দর। এই বিমান বন্দরে এবার একসাথে ১৬ টি বিমান দাঁড়াতে পারবে। এর জন্য বাড়ানো হয়েছে  ৬১ হাজার বর্গমিটারের বেশি অ্যাপ্রোন। বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ করে পরিকাঠামো নির্মাণ করতে প্রাথমিকভাবে ৫০০ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে। তবে তা চূড়ান্ত নয় বলে জানা গেছে। বাগডোগরা বিমানবন্দরের ডিরেক্টর সুব্রহ্মণি পি বলেন, আমরা নয়া পরিকাঠামোর প্রাথমিক নকশা তৈরি করেছি। পরিকাঠামো নির্মাণের জন্য প্রস্তুত আছি। জমি পেলেই কাজ শুরু করে দেব। অর্থের কোনো অভাব হবে না। দীর্ঘদিন ধরে অ্যাপ্রোন বাড়ানো নিয়ে আটকে ছিল বিমানবন্দরের সম্প্রসারণের কাজ।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রস্তাবিত বিমানবন্দরের টার্মিনাল বিল্ডিং হবে ৩৮ হাজার বর্গমিটার এলাকা নিয়ে অ্যাপ্রোন এরিয়া হবে ৬১,৬২৩.৯০ বর্গমিটার। গ্রাউন্ড সাপোর্ট ইকুইপমেন্ট এরিয়া হবে ৬,২১৩.৫২ বর্গমিটার। শুধু সার্ভিস এরিয়া হবে ১১,৪১৪.২৭ বর্গমিটার। অ্যাপ্রোন ফুয়েল সার্ভিস এরিয়া হবে ৬,২৯৬.৯১ বর্গমিটার। পার্কিং গ্রাউন্ড করা হচ্ছে ৩২,৩৮৭.৬৩ বর্গমিটার এলাকাজুড়ে। এয়ারপোর্টের পরিকাঠামো হবে ১,৩২,২৩৫ বর্গমিটার।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অ্যাপ্রোন এরিয়া এতটাই বাড়িয়ে করা হচ্ছে যে সেখানে একসঙ্গে ১৬টি বিমান দাঁড়াতে পারবে। বর্তমানে অ্যাপ্রোন এরিয়া যা রয়েছে তাতে এখন মাত্র একসঙ্গে পাঁচটি বিমান দাঁড়াতে পারে। রোজ ৩৭টি বিমান ওঠানামা করে। সম্প্রসারণের কাজ শেষ হলে যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য অনেকটাই সহজ হবে বলে আশাবাদী বিমানবন্দর কর্তপক্ষ।

বিমানবন্দরের ডিরেক্টর বলেন, জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি রাজ্য সরকারের। প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। সম্প্রসারণের জন্য একটি চা বাগানের জমি, সামরিক বিভাগের জমি এবং রায়তি জমি চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বাগডোগরায় জমি অধিগ্রহণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে জমিজট রয়েছে। এই রাজ্যে অনিচ্ছুক জমির মালিকের কাছে জমি নেওয়া যাবে না আইন বহাল থাকায়, জমি অধিগ্রহণে জট বেঁধে যায়। এদিকে, বাগডোগরা বিমানবন্দরে উড়ান বাড়ার পাশাপাশি যাত্রীদের দুর্ভোগ নিত্যদিনের সঙ্গী।  বাধ্য হয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ২৫ কোটি টাকা মঞ্জুর করে রেখেছে। বিমানবন্দরের ডিরেক্টর জানান, জমি পেলেই ক্ষতিপূরণের মূল্য মিটিয়ে দেওয়া হবে।