মাকে মারধর,দিনহাটায় ধারাল অস্ত্র দিয়ে বাবাকে কুপিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে

1245

দিনহাটা, ৩ আগস্টঃ চোখের সামনে নিজের মাকে মারধর করে বাবা ও সৎ মা। তা দেখে যেনে নিজেকে সামলে রাখতে পারেনি ছেলে। হাতের কাছে ধারাল অস্ত্র পেয়েই বাবা ও সৎ মাকে কোপানোর অভিযোগ উঠল ছেলের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার গভীর রাতে দিনহাটার গিতালদহ-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের দরিবশ গ্রামে। ওই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় এলাকায়।

পরে তাঁদের চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন ছুটে এলে অভিযুক্ত ছেলে পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় দু’জনকে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা ওই অভিযুক্তের বাবা করুনা বর্মনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এবং তাঁর সৎ মা ঊষাদেবী বর্তমানে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকার গিতালদহ এলাকার দরিবশ গ্রামের বাসিন্দা করুনা বর্মন। তিনি পেশায় কৃষক। তাঁর প্রথমপক্ষের স্ত্রী ও একাধিক সন্তান থাকা সত্বেও কয়েকবছর আগে তিনি দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই সংসারে অশান্তি লেগে থাকত। মাঝে মধ্যে করুনা বর্মন ও তার দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী ঊষা বর্মন আগের পক্ষের স্ত্রী বাসন্তী বর্মনকে মারধর করে বলে অভিযোগ।

গতকাল রাতেও বাসন্তী বর্মনকে মারধর করে করুনা ও তাঁর দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী ঊষা। পাশেই প্রথম পক্ষের ছেলে গৌতম বর্মণ বাড়িতে বসে ছিলেন। তাঁর বাবা ও সৎ মায়ের তাঁর নিজের মাকে মারধর করছে দেখে তিনি ক্ষুব্ধ হন। পরে তিনি ঘর থেকে একটি ধারালো অস্ত্র নিয়ে এসে তাঁর বাবাকে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করেন। বাবাকে বাঁচাতে তাঁর সৎ মা এগিয়ে এলে তাঁকে আঘাত করা হয়। এরপর তাঁদের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে এলে পালিয়ে যায় সে। রক্তাক্ত অবস্থায় দু’জনকে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা করুনা বর্মনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাঁর সৎ মা ঊষাদেবী বর্তমানে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে চিকিতসাধীন রয়েছেন।

এই বিষয়ে দিনহাটা থানার আই সি সঞ্জয় দত্ত জানান, গিতালদহ এলাকার দরিবশ গ্রামের গৌতম বর্মণ(১৫) নামে এক যুবক তাঁর বাবা ও সৎ মার সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। পরে সে ক্ষুব্ধ হয়ে পাট কাটার বেকি দিয়ে তাঁর বাবা ও সৎ মাকে আঘাত করে। স্থানীয়রা হাসপাতালে নিয়ে আসলে তারা বাবা করুনা বর্মণ মারা যায়। তাঁর সৎ মা দিনহাটা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে দিনহাটা থানার পুলিশ।