ব্যবসায়ীদের ভারত বন্ধ নিয়ে দুই সংগঠনের চাপানউতর, দ্বিধাগ্রস্ত ব্যবসায়ী মহল

46

মলয় দে, নদীয়াঃ আজ ২৬শে ফেব্রুয়ারী গোটা ভারতবর্ষ জুড়ে ব্যবসায়ীরা ভারত বন্ধ৷ সেইরকমই প্রচার চালিয়ে যাচ্ছিলেন ভারতের ব্যবসায়ী সংস্থা কনফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স অর্থাৎ ক্যাট।

কেন্দ্রীয় ব্যবসায়ী সংগঠনের মতে, জিএসটি সরলীকরণ এবং জিএসটি-এর হারের পরিবর্তনের দাবীতে ভারতের ব্যবসায়ী সংস্থা সিএআইটি নদীয়ার শান্তিপুর, ফুলিয়া সহ গোটা জেলা জুড়ে ব্যবসায়ী ধর্মঘট সফল করার জন্য জোড়দার প্রচার ও সভা করেছে৷ বিভিন্ন জায়গায় পথসভা করে ধর্মঘটের উদ্দেশ্য ব্যবসায়ীদের অবহিত করা হয়েছে।

ক্যাটের দুইব্যবসায়ী নেতা প্রদীপ প্রামানিক এবং দেবাশীষ প্রামানিক জানান, গতকাল রাজ্যের অপর একটি ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বিভ্রান্ত মূলক প্রচার করা হয় যে, “সরকারি তরফে আলাপ-আলোচনা চলছে এবং সদর্থক ভূমিকা জন্য আগামী কালকের বন্ধ প্রত্যাহার করা হলো।” “কোন সংগঠন বন্ধ ডাকলো আর কোন সংগঠন বন্ধ প্রত্যাহার করলো সেটা ব্যানার না দেখেই একদম চূড়ান্ত সময়ে”, গতকাল সন্ধ্যায় এ ধরনের বিভ্রান্তকর প্রচারে অনেকেই বন্ধ হচ্ছে না বলেই জেনেছিলেন। তাই আজ তার আংশিক প্রভাব পড়েছে। না হলে বন্ধ ১০০% সফল হতো। কারণ এটা ব্যবসায়ীদের এবং তার সঙ্গে যুক্ত বহু ক্রেতা অর্থাৎ সাধারণ মানুষের স্বার্থে এবং তাদের নৈতিক সমর্থন পাওয়া গিয়েছিলো। তবুও এই প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও নৃসিংহপুর চাল ব্যবসায়ী, শান্তিপুর অবস্থিত পিটার ইংল্যান্ড, ভিমার্টের মতো বড় ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন মার্কেট কমপ্লেক্স বন্ধ রয়েছে।

অন্যদিকে ফেডারেশন ট্রেডার্স অর্গানাইজেশন ওয়েস্টবেঙ্গল অর্থাৎ এফটিও-এর পক্ষ থেকে নদিয়া জেলার যুগ্ম সম্পাদক তারক দাস জানান, রাজ্য সম্পাদক তারকনাথ ত্রিবেদী গতকাল জানিয়ে দিয়েছেন জেলায় যেন কোথাও বন্ধ পালিত না হয়। কারণ আমাদের সংগঠন আন্দোলনের পক্ষে, বন্ধের পক্ষে নয়।

দীর্ঘদিন লকডাউন থাকার পর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাই তাদের রুজিরুটি বজায় রেখেই, ব্যাবসায়িক জনমত গড়ে তোলা এবং প্রতিবাদসভা সবকিছুই চলবে। তবে আজ নদীয়া জেলায় কোন জায়গায় দোকানপাট বন্ধ ছিলো না। আংশিক বন্ধের দাবি করা ক্যাটের নদীয়া জেলায় কোনো সংগঠন নেই, তবে শান্তিপুরের দুই, একজন স্বঘোষিত ব্যবসায়িক নেতা বলে দাবি করেন, ব্যক্তিগত তারা দোকান বন্ধ রাখলে বিষয়টি আলাদা তবে সামগ্রিকভাবে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল আজকের জনজীবন।

এই প্রসঙ্গে ক্যাটের নদীয়া জেলার যুগ্ম সম্পাদক প্রদীপ প্রামানিক জানান, জেলা সভাপতি সুনীল সরকার কে বিষয়টি জানিয়েছি, জেলায় ২৯ টি শক্তিশালী ইউনিট এবং বিগত দিনের জেলার অনুষ্ঠিত হওয়া কৃষ্ণনগরে সর্বশেষ্ঠ ব্যাবসায়িক সম্মেলন দেখার পরও একটি সংগঠন যখন অপর সংগঠনের সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তখন বিষয়টি স্পষ্ট হয় তাদের সংগঠন সম্প্রতি ব্যাবসায়িকখোঁজ খবর রাখেন না, বা রাজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ বলে কেন্দ্রীয় ক্যাড সম্পর্কে তাদের ধারণা নেই।