সিএএ বিরোধী রাজ্যগুলিকে বাইপাশ করে নাগরিকত্ব আইন অনলাইনে চালু করতে চায় কেন্দ্র

429

ওয়েব ডেস্ক, ১ জানুয়ারিঃ বাংলা-সহ একাধিক রাজ্য সরকারের আপত্তি এড়িয়ে ঘুরপথে নাগরিকত্ব আইন চালু করতে পারে কেন্দ্র। প্রয়োজনে রাজ্য সরকারের কোনও পরিকাঠামো ব্যবহার না করে, অনলাইনে চালু করা হতে পারে পুরো প্রক্রিয়া। এমনটাই ইঙ্গিত দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কর্তারা। ইতিমধ্যেই অনলাইনে তথ্য আদান-প্রদান এবং নথি যাঁচাইয়ের প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন করা যাবে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আধিকারিক সূত্রে খবর, এর জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপও নেওয়া হয়ে গিয়েছে। গত মঙ্গলবার কেরলের বিধানসভায় সিএএ বাতিলের একটি প্রস্তাব পাস হয়। অন্য দিকে, পশ্চিমবঙ্গ-সহ আরও বেশ কয়েকটি রাজ্য সরকার নতুন আইন না মানার কথা প্রকাশ্যে জানিয়ে দিয়েছে। যে কারণে, সিএএ-বিরোধী রাজ্যগুলিকে এড়িয়েই সংশোধিত আইনের আওতায় আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব দেওয়া বন্দোবস্ত করছে কেন্দ্রে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক আধিকারিক এক ইংরেজি সাংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “নাগরিকত্বের জন্য আবেদন। আবেদনকারীদের তথ্য আদান-প্রদান এবং সর্বোপরি নথি যাঁচাই করে নাগরিকত্ব দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটিই অনলাইনে করার ভাবনা চলছে। ভাবা হচ্ছে, জেলাশাসকের পরিবর্তে পুরো বিষয়টির উপর নজরদারির জন্য নতুন করে লোক নিয়োগ করার কথাও।”

এই আইন বাতিলের কোনও প্রশ্নই নেই, আগেই জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর দাবি ছিল, সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকত্ব সম্পর্কিত কোনও আইন পাশ হলে, তা কোনওভাবেই আটকে দিতে পারে না রাজ্য সরকার। কিন্তু আইন যাই বলুক, রাজ্য সরকারের পরিকাঠামো ব্যবহার না করে, এত বড় প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা একপ্রকার অসম্ভব। আর সেটা অনুধাবন করতে পেরেই হয়তো বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে অনলাইনের পথ খোঁজা হচ্ছে। সিএএ-র পাশাপাশি এনপিআরের পুরো প্রক্রিয়াও অনলাইনে করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।

প্রসঙ্গত, সিএএ অনুসারে, হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যরা, যাঁরা পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪ পর্যন্ত এসেছেন এবং সেখানে ধর্মীয় নিপীড়নের মুখোমুখি হয়েছেন, তাঁদেরকে অবৈধ অভিবাসী হিসাবে গণ্য না করে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।