বদল হচ্ছে স্কুল সার্ভিস শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগের নিয়ম

799

ওয়েব ডেস্ক, ৩০ জানুয়ারিঃ শিক্ষক–শিক্ষিকাদের নিজের জেলায় নিয়োগ করা নিয়ে মঙ্গলবারই টুইট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা শুরু করল স্কুলশিক্ষা দপ্তর। মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছিল প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবার সেই প্রতিশ্রুতিকে এবার বাস্তবায়িত করার পথে হাটা দিল রাজ্য সরকার। যার জেরে বদলে যেতে চলছে স্কুল সার্ভিসে শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগের নিয়মও। বদল হতে পারে বদলির নিয়মেও। বাড়ি থেকে কাছে হলে ভিন্ন জেলাতেও হতে পারে স্কুল।

গত মঙ্গলবারই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ট্যুইট করে জানিয়েছিলেন, স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিরা যাতে এবার থেকে নিজ নিজ জেলায় পোস্টিং পান সেটা দেখা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা যাতে বাস্তবায়িত হয় তার জন্য এবার পদক্ষেপ নিতে শুরু করল রাজ্য স্কুলশিক্ষা দফতরও।

জানা গেছে, ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী স্কুলশিক্ষা দফতরকে নির্দেশ দিয়েছেন কোন জেলায় কত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল রয়েছে, স্কুলগুলিতে পড়ুয়ার সংখ্যা কত, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সংখ্যা কত, তাঁদের বাড়ি আর স্কুলের মধ্যে দূরত্ব ও সেই দূরত্ব পাড়ি দিতে কত সময় লাগছে সে সব তথ্য সংগ্রহ করতে।

শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা কার্যকর করতে স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের নিয়মে বদল আনা হচ্ছে। বদলির বিধিও বদল করা হবে। নতুন শিক্ষকরাই শুধু নন, যাঁরা কর্মরত তাঁরাও আবেদনের ভিত্তিতে নিজের জেলার স্কুলে পড়ানোর সুযোগ পাবেন। কোন জেলায় কত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল রয়েছে, স্কুলগুলিতে পড়ুয়ার সংখ্যা কত ইতিমধ্যেই দপ্তরের আধিকারিকদের সেই হিসেব নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট জেলায় বাড়ি, কিন্তু অন্য জেলায় শিক্ষকতা করেন এমন শিক্ষক–শিক্ষিকাদের নাম, ঠিকানা এবং অন্যান্য তথ্য সংগ্রহের কাজও শুরু করতে বলা হয়েছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।

বুধবার এ নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‌অনেক সময় বাড়ি থেকে অনেক দূরের স্কুলে কর্মরত থাকায় যেতে–আসতেই অনেক সময় চলে যায়। ফলে একজন শিক্ষক বা শিক্ষিকা ক্লাসে ঠিকমতো পড়াতে পারেন না। পরিবারকেও সময় দিতে পারেন না। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার ফলে তাঁরা শান্ত মনে একাগ্রতার সঙ্গে পড়ানোর কাজের সঙ্গে পরিবারকেও সময় দিতে পারেবন।’‌ দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে ইতিমধ্যেই বৈঠক এবং কিছু নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান। বলেন, ‌‘‌কমিশনারকে বলেছি জেলাভিত্তিক স্কুল ও পড়ুয়ার হিসেব নিতে। শিক্ষকদের সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে। এই সিদ্ধান্ত রূপায়ণের জন্য বদলি নীতি এবং বিধিতেও সংশোধনী আনা হবে। স্কুলগুলিতে শূন্যপদ পূরণও এই পদ্ধতি মেনে হবে।’‌ নিয়োগ পদ্ধতিতে বদল নিয়ে বলেন, ‘‌এই নীতি কার্যকর করতে এসএসসি ও প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বদল আনা হয়েছে। নিয়োগের আগে কে কোন স্কুলে, কোন জেলায় যাবে ইত্যাদি প্রশ্ন করার সুযোগ আর থাকছে না। এরপরের নিয়োগ নতুন বিধি মেনে হবে।’‌ বদলির ক্ষেত্রেও মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাকদ্বীপের শিক্ষক যাতে সেখানকার কোনও স্কুলেই বদলি হতে পারেন, সেটাও দেখা হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

স্কুলশিক্ষা দফতর সুত্রে জানা গিয়েছে, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বাড়ির কাছে স্কুলে পোস্টিংয়ের যে নীতি নেওয়া হচ্ছে সেখানে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বাড়ি থেকে তাঁদের কর্মস্থলের দূরত্বও। ভিন্ন জেলার স্কুলও এক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবে যদি তা শিক্ষক-শিক্ষিদের বাড়ি থেকে কাছে হয় তো। অর্থাৎ নিজ জেলা ভিন্ন অন্য কোনও জেলায় যে পোস্টিং হবে না তা কিন্তু নয়। পাশের জেলার স্কুলেও পোস্টিং হতে পারে যদি তা শিক্ষক-শিক্ষিকার বাড়ি থেকে দূরত্ব কম হয় তো। তার জন্যই স্কুল সার্ভিসের মাধ্যমে চাকরি পাওয়া শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রয়োজনীয় জায়গায় বদলি করতে এবার বদলির নিয়মেই বদল ঘটানো হবে।