নয়া বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাজ্যপালকে ফুল ও মিষ্টি পাঠালেন মুখ্যমন্ত্রী

103

ওয়েব ডেস্ক, ১ জানুয়ারীঃ নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাজ্যপালকে ফুল ও মিষ্টি পাঠালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন বছরের আনন্দে মেতে উঠেছে গোটা দেশ সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলও। রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় রাজ্যে আসার পর থেকেই বিতর্ক লেগেছিল।বছর শেষে সেই বিতর্কের আগুন একটু হলেও জুড়িয়েছিল রাজ্যপাল-শিক্ষামন্ত্রী সাক্ষতে। তারপরই এল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে নববর্ষের উপহার। মুখ্যমন্ত্রীর পাঠানো ফুল-মিষ্টি পেয়ে আপ্লুত রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। মুহূর্তে বদলে গেল পুরো ছবিটা। বছর শেষের দিনটিতে বেশ ফুরফুরে রইলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়।

রাজ্যপালের ডাকে সাড়া দিয়ে মঙ্গলবার রাজভবনে যান শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। বেশ কিছুক্ষণ রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলেন রাজ্যপাল। শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁরও একাধিক ভাবনার কথা শিক্ষামন্ত্রীকে জানান জগদীপ ধনখড়। দু’জনের বেশ কিছুক্ষণ আলোচনা চলে। তারপরই মঙ্গলবার বিকেলে রাজভবনে ফুল ও মিষ্টি পাঠান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর আচরণে স্বভাবতই বেশ খুশি রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। তার আগেই রাজ্যপাল টুইট করেছেন। দুজনের ছবি দিয়ে তিনি লিখেছেন, শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে খুব আন্তরিক আলোচনা হয়েছে। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার সকল সদস্যকে তিনি নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

কেশরীনাথ ত্রিপাঠির পরে রাজ্যের সাংবিধানিক দায়িত্ব নিয়ে আসার পরেই রাজ্য সরকারের সঙ্গে নানা ইস্যুতে সঙ্ঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অশান্তি থেকে শুরু করে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পথে নামা নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা রাজনৈতিক মন্তব্য বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। রাজভবনের ঠাণ্ডি ঘরে বসে দিনের পর দিন টুইট করে কিংবা বিবৃতি দিয়ে রাজ্য সরকারকে যে ভাষায় বিঁধেছেন, তা কার্যত নজিরবিহীন। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ‘টার্গেট’ করে নিয়েছেন তিনি।

কিন্তু রাজ্যপালের সঙ্গে ‘অম্লমধুর’ সম্পর্ক হলেও কখনও শিষ্টাচার ভোলেননি মুখ্যমন্ত্রী। তাই নিজের বাড়িতে পারিবারিক কালিপুজোয় সস্ত্রীক রাজ্যপালকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিদানে জগদীপ রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানকে শিষ্টাচার দেখানোর রাস্তায় হাঁটেননি। তবে আচমকাই বর্ষশেষের লগ্নে রাজ্য বনাম রাজ্যপাল সঙ্ঘাতে আপাতত ইতি পড়ার মতো একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।