শিশু সুরক্ষা কর্মসূচি পালিত হল হিলি ব্লকের ধলপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতে

49

নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুরঘাটঃ করোনা মহামারি পরবর্তী পরিস্থিতিতে বাল্যবিবাহ, শিশু পাচার বা শিশুশ্রম থেকে এলাকাকে মুক্ত করবার জন্য পঞ্চায়েত স্তরে কিশোর কিশোরীদের লিখিত আবেদন গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে, অ্যাকশন এইড কোলকাতা এবং তার সহযোগী সংগঠন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার উজ্জীবন সোসাইটি এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সদস্যদের সাথে একযোগে সারা রাজ্য জুড়ে ৯টি জেলায় বাল্য বিবাহ, শিশুশ্রম এবং শিশু পাচার মুক্ত গ্রাম সংসদ গড়ে তোলার জন্য সপ্তাহ ব্যাপী নানান কর্মসূচি চলছে। এরকমই একটি কর্মসূচি সোমবার পালিত হল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি ব্লকের ধলপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতে।

এই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কিশোর কিশোরীরা শিশু সু্রক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যাকে অগ্রাধিকারের মধ্যে রাখবার এবং তাদের গ্রামকে বাল্যবিবাহ, শিশু পাচার বা শিশুশ্রম থেকে মুক্ত করবার জন্য লিখিত আবেদন জানালেন ধলপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের নিকট। পাশাপাশি একটি ছোট্ট অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই কিশোর কিশোরীরা তাদের এলাকাকে বাল্যবিবাহ, শিশু পাচার বা শিশুশ্রম থেকে মুক্ত রাখবার জন্য শপথ গ্রহণ করেন। তারা প্রধানের নিকট দাবী রাখেন,তাদের এই বার্তাটি যাতে জেলা পর্যায়ে সকল সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নজরে আনা সম্ভব হয়, তারও আবেদন রাখেন আজকের এই কর্মসূচিতে। 

গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে তাদের গ্রাম এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় যাতে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়, তার জন্য এই এলাকার চকমোহন, মুরারীপুর, মহিষনোটা এবং কিসমতদাপট গ্রাম সংসদের প্রায় ২০ জন কিশোর কিশোরী অপরূপা মোহন্ত, কৃষ্ণা পাল, পূর্ণিমা বর্মণ, সঙ্গিতা বর্মণ, রিঙ্কি সরকার, সাথী পাল, সোমা মোহন্ত, নমিতা মাহাত, রাব্বি মণ্ডল, ইমরান মণ্ডল, শুভ্রা সরকার, পুষ্কর সরকার, শুভজিত তালুকদার, নেহা সরকার, সুপর্না ঘোষ, অপর্ণা ঘোষ, জুঁই সরকার  সহ অন্যান্যরা এই পদক্ষেপটি নেয়। এই আবেদনের মাধ্যমে তারা করোনা মহামারি পরবর্তী পরিস্থিতিতে তাদের গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী অন্যান্য জায়গায় বর্তমান যে সংকট সে সম্পর্কে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান শেফালী বর্মনের কাছে। তাদের উপলব্ধি হয়েছে যে এই করোনা মহামারীর সংকটকালে বাল্য বিবাহ, শিশুশ্রম বা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ শিশুদের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে এবং সেই সঙ্গে তাদের গ্রামের মানুষজন যারা বিভিন্ন সূত্রে বাইরে কাজ করতে যায় সেই সমস্ত বাবা-মায়ের সাথে শিশু অভিবাসীর মত ঘটনাও উল্লেখ জনক ভাবে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।

এই কিশোর কিশোরীরা তাদের পঞ্চায়েতের কাছে গ্রাম সভার বৈঠকে এই বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করছে এবং সেই সঙ্গে তাদের গ্রামে গ্রামস্তরের যে শিশু সুরক্ষা কমিটি আছে তা শক্তিশালীকরণে সমর্থন করার জন্য পঞ্চায়েতের কাছে আবেদন করছে। কিশোর কিশোরীদের এই ভাবনাটিকে বাস্তবে রূপদান করতে সহায়তা করেছেন উজ্জীবন সোসাইটি। এই সংস্থার পক্ষে পরিমল মাহাত, কৃষ্ণ মালী, রাজেশ মোহন্ত, দেবাশিস সরকার, সজল পাল, রকি সরকার সহ আরো অনেকে এই কিশোর কিশোরীদের প্রাণিত করেছেন।

উজ্জীবন সোসাইটির সম্পাদক সূরজ দাশ বলেন,করোনা পরবর্তী পরিস্থিতিতে শিশু সুরক্ষা মজবুত করতে গ্রামে গ্রামে শিশু সুরক্ষা কমিটিগুলো সক্রিয় করতে তাদের এই উদ্যোগ গত ১ লা অক্টোবর থেকে চলছে।

তিনি আরও জানান, এই কর্মসূচী আমাদের পশ্চিমবঙ্গের ৯টি জেলায় চলছে। পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মালদা, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, কোচবিহার, দক্ষিণ দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার জেলায় কর্মসূচী অভিযান চলছে। আমাদের রাজ্যে এই প্রথম একসাথে ৯টি জেলার ১১০ টিরও বেশি গ্রাম থেকে এই আবেদন পত্র সংশ্লিষ্ট গ্রামের কিশোর কিশোরীদের দ্বারা সাক্ষরিত করে পঞ্চায়েত প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়ার কর্মসূচী নেওয়া হয়েছে। এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে আশা করা যাচ্ছে যে গ্রাম পর্যায়ের শিশু সুরক্ষা কমিটিগুলো আগামিদিনে আরও কার্যকরী হবে।

ধলপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শেফালী বর্মণ জানান, তাঁর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কিশোর কিশোরীদের এই উদ্যোগে তিনি অভিভূত। তিনি এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে অবশ্যই সক্রিয় থাকবেন। শিশুর অধিকার সুনিশ্চিত করতে তিনি ভিলেজ লেবেল চাইল্ড প্রোটেকশন কমিটিগুলো সক্রিয় করবার উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।