ভারতের সীমান্তে এখনও মজুত চীনা সেনা, যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ ভারতীয় সেনাপ্রধানের

243

ওয়েব ডেস্ক, ৮ আগস্টঃ পিপলস লিবারেশন অফ আর্মির (পিএলএ) ফৌজি সরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে শনিবার মেজর জেনারেল পর্যায়ের বৈঠকে বসেছে ভারত ও চিন। লাদাখ সেক্টরে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর দৌলত বেগ ওল্ডি এলাকায় সেই বৈঠক হচ্ছে।

এই নিয়ে পাঁচবার সেনা পর্যায়ে সর্বোচ্চ বৈঠকেও মেলেনি সমাধানসূত্র। প্যাংগং লেক এর ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং দেমসাং উপত্যকা থেকে সেনা সরাতে রাজি হয়নি চীন।

ভারত ও পাল্টা জবাব দিয়ে জানিয়েছে, যতক্ষণ না সেনা প্রত্যাহার করবে বেজিং ততক্ষণ সেনা প্রত্যাহারের পথে হাঁটবে না নয়াদিল্লি। ভারতীয় সেনা কর্তাদের মতে সেনা অপসারণ নিয়ে অহেতুক টালবাহানা করে চিন আসলে ভারতীয় সেনাবাহিনীর স্নায়ুর পরীক্ষা নিচ্ছে। প্রায় তিন মাস ধরেই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে ভারতের সীমান্ত অঞ্চলে ঘাঁটি গেড়েছে চীন। লাইন অফ কন্ট্রোলের সংজ্ঞা বদলে দিতে চাইছে চীন।

ভারতের তরফ থেকে এ ব্যাপারে সতর্ক করা হলেও অভিযোগ অস্বীকার করেছে চীন। এমনকি অরুণাচল প্রদেশ এবং সিকিম অঞ্চলেও পাল্টা সেনা বাড়িয়েছে চীন। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় সেনার কমান্ডারদের সর্বোচ্চ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে রাখার নির্দেশ দিলেন সেনা প্রধান নারাভানে। নির্দেশে সমর্থন রয়েছে চিফ আর্মি স্টাফ জেনারেল বিপিন রাওয়াতেরও। গত দুদিনে অসমের তেজপুরে ৪ নম্বর সেনার দপ্তর পরিদর্শন করেন নারাভানে। প্রস্তুতি নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বৈঠক হয় সেনাবাহিনীর সাথে। শুক্রবারে সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডার এর সদর দপ্তর পরিদর্শনে আসেন নারাভানে। সেনাদের সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা বলেন। প্রস্তুতি দেখে খুশি হন। এরপর মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং আনন্দীবেন প্যাটেল এর সঙ্গে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন নারাভানে।

একটি ইংরেজি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সীমান্ত অঞ্চলে বেরিয়েছেন কয়েকদিন চষে বেরিয়েছেন নারাভানে। সেনাপ্রধানকে অরুণাচলের সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য পেশ করেন কমান্ডার রিপোর্ট এবং উপগ্রহ চিত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী উত্তরাখন্দ, হিমাচল প্রদেশ, অরুণাচল সীমান্তে যুদ্ধের সৈন্য মোতায়েন করতে আরম্ভ করেছে বেজিং। সম্ভাব্য যুদ্ধের কথা মাথায় রেখেই লাদাখে ইন্টিগ্রেটেড গ্রুপ তৈরি করেছে চীন। প্রস্তুতিতে পিছিয়ে নেই ভারত। সীমান্ত তীরবর্তী একাধিক বায়ু সেনা ঘাঁটিতে যুদ্ধবিমান গুলি কে তৈরি করে রাখা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি যে দিকে মোড় নেবে সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করবে ভারতীয় সেনা। এমনটাই স্পষ্ট জানানো হয়েছে সেনাবাহিনীর তরফ থেকে।

সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভান জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার তেজপুর এবং শুক্রবার লখনউ সফরে পূর্ব ও মধ্য সেক্টরে সেনার সুরক্ষা পরিস্থিতি, কত জওয়ান মোতায়েন আছেন এবং সেনার  প্রস্তুতির বিষয়ে জেনারেল নারাভানেকে খুঁটিনাটি জানান উচ্চপদস্থ কমান্ডাররা। চিনের সঙ্গে ১,৫৬৩ কিলোমিটারের দৈর্ঘ্যের সীমান্তের দায়িত্বে আছে তেজপুরের গজরাজ কর্পস।

ভারতীয় সেনার প্রাক্তন উপপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এ এস লাম্বা (অবসরপ্রাপ্ত) জানিয়েছেন, পূর্ব সেক্টরে চিনের প্ররোচনা ক্রমশ বাড়ছে। তাই সেখানে চূড়ান্ত প্রস্তুত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করার অঙ্গ হিসেবে দু’দিনের সফরে গিয়েছিলেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, ‘গত বছর অরুণাচল প্রদেশে (ভারতীয়) সেনার মহড়া হিম বিজয়ে চিনের আপত্তি এবং ভুটানের ভূখণ্ড চিনের দাবি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।