আচ্ছে দিন দূর অস্ত! নতুন বছরে স্বল্পসঞ্চয় প্রকল্পে সুদ কমাতে পারে মোদি সরকার

85

ওয়েব ডেস্ক, ২৮ ডিসেম্বরঃ গত ছ’বছরের তলানিতে নেমে আসা অর্থনীতির বৃদ্ধিকে টেনে তুলতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির উপর সুদ কমানোর জন্য চাপ বাড়াচ্ছে যাতে সুদ কমলে অর্থনীতিতে ভোগব্যয় ও শিল্প বিনিয়োগের জন্য ঋণের চাহিদা বাড়ে। কিন্তু, সম্প্রতি রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সঙ্গে এক বৈঠকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিও সাফ জানিয়ে দিয়েছে, স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পগুলিতে কেন্দ্রীয় সরকার সুদের হার না কমালে তাদের পক্ষে সুদের হার আর বেশি কমানো সম্ভব হবে না। কেননা, ব্যাঙ্কঋণে সুদের হার কমাতে হলে ব্যাঙ্কগুলিকে আগে তাদের বিভিন্ন আমানতে প্রকল্পে সুদে হার কমাতে হবে।

মোদি জমানার আগে পর্যন্ত পোষ্ট অফিস থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কে যে সুদ দেওয়া হত স্থায়ী আমানত বা মাসিক আয় সম্পর্কিত প্রকল্পগুলিতে, সেগুলির ক্ষেত্রে বছরে একবারই সুদের হার ঘোষণা করা হত। কিন্তু এই ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটানো হয় মোদি জমানায়। ঠিক হয় প্রতি ৩ মাস অন্তর স্বল্প সঞ্চয় ও ব্যাঙ্কের আমানতগুলির ওপর সুদের হারের পর্যালোচনা করা হবে। চলতি বছরের লোকসভা নির্বাচনের আগে এই সুদের হার কিছুটা বাড়িয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু ভোটের পরেই জুলাই মাসে কোপ পড়ে স্বল্প সঞ্চয়ের সুদে। তারপর থেকে আর সুদের হারে কোনও পরিবর্তন ঘটেনি কিবা ব্যাঙ্ক কি পোষ্টঅফিসে। কিন্তু শোনা যাচ্ছে নতুন বছরের শুরুতেই সেই সুদ আরও কমিয়ে দিতে পারে মোদি সরকার।

৬ বছর আগে দেশবাসীকে ‘আচ্ছে দিন’ আনার স্বপ্ন দেখিয়ে কেন্দ্রের ক্ষমতায় এসেছিলেন মোদী। কিন্তু নোটবন্দি, থেকে আধার বাধ্যতাকরণ, জিএসটি লাগু এবং সাম্প্রতিক কালের এনআরসি, সিএএ ও এনপিআর নিয়ে গোটা দেশের মানুষকেই তিনি ঠেলে দিয়েছেন বিপর্যয়ের মুখে। এবার তাঁর হাত পড়তে চলেছে মানুষের স্বল্প সঞ্চয়ের প্রকল্পগুলির দিকেও। শোনা যাচ্ছে, নতুন বছরের শুরুর দিকেই সরকারি ব্যাঙ্কগুলিতে ও পোষ্টঅফিসের স্বল্প সঞ্চয়ের প্রকল্পগুলিতে সুদ কমাতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। স্বাভাবিক ভাবেই আচ্ছে দিন দূর অস্ত!

জানা যাচ্ছে যে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক কেন্দ্রের ওপরে চাপ দিচ্ছে যাতে তাঁরা স্বল্প সঞ্চয়ের ওপর সুদ যেন কমায়। কারণ স্বল্প সঞ্চয়ের সুদ সব সময়ই ব্যাঙ্কের থেকে বেশি থাকে। আর স্বল্প সঞ্চয়ের এই সুদের হার ঠিক করে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। তাই কেন্দ্র স্বল্প সঞ্চয়ের সুদ কমাতে রাজি না হলে রিজার্ভ ব্যাঙ্কও সেখানে কিছু করতে পারবে না। এদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংকগুলিকে তাঁদের গ্রাহক ধরে রাখার তাগিদেই স্বল্প সঞ্চয়ের কাছাকাছি সুদ দিতে হয়। সাধারণত এই ফারাক থাকে ১ শতাংশের আশেপাশে। অর্থাৎ ব্যাঙ্কে ৭ শতাংশ সুদ পাওয়া গেলে পোষ্ট অফিসের স্বল্প সঞ্চয়ে তা মেলে ৮ শতাংশ হারে।

দেশের অর্থনীতির বর্তমান যা অবস্থা তাতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বারবার রেপো রেট কমিয়েছে। তার জেরে ব্যাঙ্কগুলিরও সুদের হার কমাবার কথা। কিন্তু ব্যাঙ্ক তাঁদের সুদের হার কমাতে পারছে না এই স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পের জন্য। ব্যাঙ্ক সুদ কমালেই গ্রাহকরা ছুটবেন পোষ্ট অফিসে টাকা জমাতে। অগ্যতা রিজার্ভ ব্যাঙ্ককেই নামতে হয়েছে মাঠে। তাই তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুরোধ করেছে স্বল্প সঞ্চয়ে সুদের হার কমাতে। কেন্দ্র যে এই অনুরোধ মানতে বাধ্য এমন নয়, তবুও যা পরিস্থিতি তাতে সাউথ ব্লকের অনেকেই মনে করছেন নতুন বছরের শুরুতেই কেন্দ্রীয় সরকার স্বল্প সঞ্চয়ের সুদ কমাতে পারে। আর তার জেরেই ফের ধাক্কা খেতে চলেছে দেশের নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত সম্প্রদায় এবং প্রবীণ মানুষেরা। কারণ এই স্বল্প সঞ্চয়ের সুদ থেকেই এই তিন শ্রেনীর মানুষের সংসার চলে। কাজেই আচ্ছে দিন, দূর অস্ত।

গত সপ্তাহেই ভারতীয় স্টেট ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান রজনীশ কুমার ইঙ্গিত দেন, স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পগুলিতে কেন্দ্রীয় সরকার সুদের হার না কমালে ব্যাঙ্কগুলির পক্ষে সুদের হার কমানো প্রায় অসম্ভব। বণিকসভা ফিকির এক অনুষ্ঠানে কুমার মন্তব্য করেন, ‘অপ্রতুল সরকারি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের কারণে আমাদের দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ এখনও ব্যাঙ্ক আমানতই একমাত্র সম্বল ভেবে আমাদের কাছে টাকা রাখেন। ফলে, ব্যাঙ্কগুলির পক্ষে একটি নির্দিষ্ট সীমার নীচে আমানতে সুদের হার কমানো অসম্ভব। এবং, সেই কারণে ব্যাঙ্কঋণেও সুদের হার আর বেশি কমানো কঠিন।’