করোনা ভাইরাসে মৃত্যু ৪২৫, আক্রান্ত প্রায় ২০ হাজার

267

ওয়েব ডেস্ক, ৪ ফেব্রুয়ারিঃ নভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪২৫ । লাফিয়ে লাফিয়ে ক্রমশ বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। সোমবার মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৩৬২, মঙ্গল তা বেড়ে ৪২৫ এ । আক্রান্তের সংখ্যা গিয়ে পৌঁচেছে ২০ হাজারের কিছু বেশিতে। পরিস্থিতি যা তাতে মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে গেলেও যেতে পারে।

মঙ্গলবার সকালেই বেজিংয়ের সরকারি প্রশাসন জানিয়েছে,  এখনও পর্যন্ত এই ভাইরাসের কবলে পড়ে ৪২৫জন মারা গিয়েছেন। এই ভাইরাস যাতে আর ছড়ানোর কোনও সুযোগ না পায় তার জন্য সব রকমের ব্যবস্থা নিচ্ছে বেজিং। কিন্তু তাতেও কতটা প্রতিরোধ গড়ে তোলা যাবে তা সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। রোজই কোনও না কোনও দেশে নতুন করে এই ভাইরাসে আক্রান্তের খোঁজ মিলছে। এমন অবস্থায় আতঙ্কে চিনের জন্য দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে একের পর এক দেশ। উড়ান বন্ধ করেছে একাধিক সংস্থাও। এরই মধ্যে ভাইরাস-মোকাবিলায় মার্কিন তৎপরতায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে চিন। নির্দিষ্ট করে কিছু না বললেও বেজিং-এর ইঙ্গিত, আমেরিকার এই সতর্কতাকে অতিসক্রিয়তা হিসেবেই দেখছে তারা।

যে উহান থেকে এই ভাইরাস ছড়িয়েছে সেখানকার পরিস্থিতির এখনও পর্যন্ত কোনও উন্নতি হয়নি। উলটে একই রকম গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে আশপাশের একাধিক শহরে। বেশ কিছু জায়গা নতুন করে ‘লকডাউন’ করা হয়েছে। একটা করে রাত কাটছে আর লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। সোমবার সার্সের পরিসংখ্যানকেও ছাপিয়ে যায়। সার্সে আকত্রান্ত হয়ে সাড়ে প্রাণ গিয়েছিল তিনশোর কাছাকাছি মানুষের। এই মৃত্যুমিছিল কবে থামবে সে বিষয়ে আশার আলো দেখাতে পারছেন না কেউ-ই।

দিল্লিতে ছড়াচ্ছে করোনা আতঙ্ক। দক্ষিণের রাজ্য কেরালায় ইতোমধ্যে তিন জনের দেহে করোনাভাইরাসের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। এর মধ্যে করোনার উপসর্গ নিয়ে সোমবার দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে ভরতি হলেন আরও এক ব্যক্তি। ওই ব্যক্তি কিছুদিন আগে চিনের হুয়ান থেকে দেশে এসেছেন বলে জানা গিয়েছে। পরীক্ষার জন্য ইতোমধ্যেই তাঁর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, কেরালায় পরপর তিন জনের শরীরে করোনাভাইরাস সংক্রমণের জেরে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সোমবার রাতে করোনাভাইরাস সংক্রমণকে ‘রাজ্য বিপর্যয়’ হিসেবে ঘোষণা করল পিনারাই বিজয়ন সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রাজ্য প্রশাসন এই পদক্ষেপ করেছে বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে কে শৈলজা একথা জানিয়েছেন।

তবে শুধু চিন নয় চিনের বাইরে আরও  ২০ টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস। বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। রবিবার ফিলিপিন্সে নভেল করোনায় আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সবথেকে খারাপ অবস্থা চিনেরই। নভেল করোনা ভাইরাস সেখানে মহামারির রুপ নিয়েছে। ইতিমধ্যেই ৫টি শহরে কার্ফু জারি কড়া হয়েছে।