নিজের ঘর থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার দম্পতির, শোকের ছায়া এলাকায়

14

ক্যানিং, ১০ সেপ্টেম্বর: স্বামী-স্ত্রী অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ালো এলাকায়। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার ক্যানিং থানার দিঘীরপাড় গ্রাম পঞ্চায়েতের কালিমন্দির সংলগ্ন পোড়ামূড়া গ্রামে। মৃত স্বামী-স্ত্রী দুই যুগলের নাম লাল্টু মন্ডল (২৫), টুম্পা মন্ডল বিশ্বাস(২০)।

স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে গত প্রায় এক বছর আগে দেখাশোনা করে আনুষ্ঠানিক ভাবেই লাল্টু মন্ডল বিয়ে করে বাসন্তী থানার ৬ নম্বর সোনাখালি গ্রামের টুম্পা বিশ্বাসকে। পেশায় গৌড়সুন্দর লাল্টুর ক্যানিং ষ্টেশন সংলগ্ন এলাকায় একটি সেলুন দোকানও রয়েছে। অন্যান্য দিনের মতো যথারীতি এদিন সেলুন দোকান না গিয়ে বাড়ীতেই ছিল লাল্টু। ছেলে বৌমা বাড়ীতে থাকায় এদিন বিকাল নাগাদ লাল্টুর মা পাড়ায় গিয়েছিলেন প্রতিবেশীদের বাড়ীতে। এর মধ্যে সন্ধ্যা নাগাদ বাড়ীর সদর দরজায় তালা দেয় পাশাপাশি পাশের একটি ঘরে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দিয়ে দুই স্বামী-স্ত্রী নিজেদের ঘরে গিয়ে দরজায় খিল লাগিয়ে দেয়। বিকালে প্রতিবেশীদের বাড়ীতে গিয়েছিলেন লাল্টুর মা। তিনি সন্ধ্যার সময় বাড়ীতে ঢুকতে গিয়ে দেখের সদর দরজায় তালা লাগানো রয়েছে। চিত্‍কার চেঁচামেচি করার পরও কোন সাড়াশব্দ না মেলায় তিনি ভেবেছিলেন ছেলে বৌমা বাড়ীতে তালা লাগিয়ে অন্যত্র কোথাও গিয়েছে। তিনি লাল্টুর বাবাকে ফোন করেন। লাল্টুর বাবা যুধিষ্ঠির মন্ডল রাত প্রায় দশটা নাগাদ বাড়ীতে ফিরে দেখেন সদর দরজা বন্ধ করে তালা দেওয়া রয়েছে। কোন প্রকারে দরজা ভেঙে ছেলের ঘরের দরজায় ধাক্কা মেরে দেখেন ভিতর থেকে বন্ধ রয়েছে দরজা। কোন রকমে দরজা ফাঁক করে দেখতে পান লাল্টু ঘরের মধ্যে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলছে। তাঁর চিত্‍কার চেঁচামেচিতে প্রতিবেশীরা দৌড়ে এসে ঘরে দরজা ভেঙে দেখেন লাল্টুর স্ত্রী টুম্পা অচৈতন্য অবস্থায় ঘরের মধ্যে বিছানায় উপর পড়ে রয়েছে এবং লাল্টু গলায় দড়ি দেওয়া অবস্থা ঘরের মধ্যে ঝুলছে। মুহূর্তে প্রতিবেশীরা স্বামী-স্ত্রীকে উদ্ধার করে চিকিত্‍সার জন্য স্থানীয় এক চিকিত্‍সকের কাছে নিয়ে গেলে চিকিত্‍সক জানান ঘন্টা তিনেক আগেই দুজনের মৃত্যু হয়েছে।খবর যায় ক্যানিং থানায়। ক্যানিং থানার পুলিশ মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তে পাঠিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

একটি সুত্রে জানা গেছে, গৃহবধু টুম্পাকে আগেই সম্ভবত শ্বাস রোধ করে খুন করে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে লাল্টু। এমনটাই অনুমান পাড়া প্রতিবেশীদের। অন্যদিকে স্বামী স্ত্রী মধ্যে ভালো সম্পর্ক ছিল। কিন্তু কি ভাবে মেয়ের মৃত্যু হয়েছে সে বিষয়ে পুলিশ সঠিক তদন্ত করে দেখুক এমনটাই দাবী করে পুলিশের উপর ভরসা রেখেছেন টুম্পার বাবা সুভাষ বিশ্বাস।