নির্ভয়াকাণ্ডে চার অপরাধীকে আইনি প্রতিকার অবলম্বনের জন্য এক সপ্তাহের সময় দিয়েছে আদালত

166

ওয়েব ডেস্ক, ৫ ফেব্রুয়ারিঃ নির্ভয়াকাণ্ডে শীর্ষ আদালত দুই বার ফাঁসির তারিখ ঘোষণা করলেও, চার অপরাধীর বিভিন্ন অজুহাতের কারণে ফাঁসি স্তগিত করে দেয় শীর্ষ আদালত। বিনয় শর্মা প্রাণভিক্ষার রিভিউ পিটিশন জমা দেওয়ার কারণে ফাঁসি শেষ মুহূর্তে স্থগিত করে দিয়েছিল দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্ট। চার অপরাধীকে সমস্ত আইনি প্রতিকার অবলম্বন করার জন্য এক সপ্তাহের সময় দিয়েছে আদালত। এক সপ্তাহ পরে তাদের মৃত্যু পরোয়ানা কার্যকর করার মামলা শুরু করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

নির্ভয়া কাণ্ডে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার অপরাধীদের ফাঁসি হওয়ার কথা ছিল গত ১ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ফাঁসি স্থগিত করে আদালত। ট্রায়াল কোর্টের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রের আবেদনের ভিত্তিতে দিল্লি হাইকোর্ট নির্ভয়ার অপরাধীদের আইনি সাহায্য নিতে আর এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দিয়েছে। এর আগেও একবার ফাঁসির তারিখ পিছিয়ে যায় নির্ভয়ার চার অপরাধীর।

নির্ভয়া মামলায় দোষী ৩ পবন গুপ্ত, বিনয় শর্মা ও মুকেশ সিংহ এর আগেও মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনার জন্য দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন৷ আর এক অভিযুক্ত অক্ষয় ঠাকুর আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টে৷ অন্যদিকে নির্ভয়ার আইনজীবীরা মামলায় দোষী সাব্যস্ত ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকর করার জন্য আদালতের কাছে আর্জি জানিয়েছিলেন৷

সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে আগে জানিয়েছিলেন, দণ্ডিতরা আইনের ফাঁককে ইচ্ছাকৃত ভাবে কাজে লাগিয়ে ফাঁসিতে দেরি করছে। তাই তিনি বিচারপতির কাছে আবেদন করেছিলেন, যেহেতু সুপ্রিম কোর্ট এই চারজনকে ফাঁসির সাজার নির্দেশ দিয়েছে, তাই তাদের যেন দ্রুত শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

উল্লেখ্য, নির্ভয়া মামলায় দোষী সাব্যস্ত ৪ জনকে ২০১৭ সালে মৃত্যুদণ্ড দেয় সুপ্রিম কোর্ট৷ দেরি না করে দ্রুত দেশের শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে দোষী ৪ জনের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন নির্ভয়ার বাবা-মা ও তাঁর আইনজীবী৷ কিন্তু শুনানি পিছিয়ে যাওয়ার পরে হতাশা প্রকাশ করেন নির্ভয়ার মা।

এরই পাশাপাশি অপরাধী পবন গুপ্তা, অক্ষয় থাকুর,বিনয় শর্মা আইনজীবী এপি সিং আদালতে দাবি করেন, এই ফাঁসির নির্দেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র এই মামলাতেই কেন মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপারে এত তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে? দ্রুততার সঙ্গে নেওয়া বিচার কবরে মিশে যায়।’

২০১২ সালে দিল্লির রাজপথে তরুণীর উপর ঘটে যাওয়া পাশবিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল গোটা দেশ। দেশবাসী দাবি জানিয়েছিল দোষীদের কড়া শাস্তির। অবশেষে আদালতের এই সিদ্ধান্তে মনে করা হচ্ছে দ্রুত ন্যায়বিচার পেতে চলেছেন ওই নির্যাতিতা তরুণী।