রাজনীতির ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত ও বর্ণময় চরিত্র অমর সিং-এর জীবনাবসান

72

ওয়েব ডেস্ক, ১ আগস্টঃ কিডনির অসুখ নিয়ে অবশেষে প্রয়াত হলেন রাজ্যসভার সাংসদ অমর সিং। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। জানা গিয়েছে, রাজনীতির ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত ও বর্ণময় চরিত্র অমর সিং। দীর্ঘদিন ধরে বিদেশেই চিকিৎসাধীন ছিলেন সমাজবাদি পার্টির এই প্রাক্তন নেতা। গতকাল থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। শনিবার দুপুরে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকি‍ৎসাধীন অবস্থাতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বিজেপির রাজ্যসভা সাংসদ।

পরিবার সূত্রে খবর, শুক্রবার সকাল থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। শেষপর্যন্ত আইসিইউতে রাখা হয়েছিল তাঁকে। শনিবার দুপুরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর মৃত্যুতে ইতিমধ্যে শোকপ্রকাশ করেছেন তাবড় তাবড় রাজনীতিবিদরা। রাজনৈতিক জগতে তাঁর চলে যাওয়া বড়সড় ক্ষতি হিসাবেই দেখা হচ্ছে। একটা সময়ে দিল্লির রাজনীতিতে একটা বড় অংশে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন অমর সিং। বিরোধী হোক কিংবা শাসক, সমস্ত দলের রাজনীতিবিদদের সমান সখ্যতা ছিল তাঁর।

শুধু রাজনীতিবিদদের সঙ্গেই নয়, বলিউডের একাধিক অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল তাঁর। বিশেষ করে অমিতাভ বচ্চন পরিবারের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল তাঁর। বচ্চন পরিবার এবং রাজনীতির যোগাযোগের পিছনে তাঁর অনবদ্য এক কীর্তি ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে রাজনীতি থেকে সরে যান অমর সিং।

এদিন সকালেও অমর সিং নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে স্বাধীনতা সংগ্রামী বালগঙ্গাধর তিলকের মৃত্যুবার্ষিকীতে শোকজ্ঞাপন করেন। এমনকী ইদেরও শুভেচ্ছা জানান তিনি। এর কয়েকঘণ্টার মধ্যে তাঁর মৃত্যুতে স্তব্ধ তাঁর অনুগামীরা। প্রসঙ্গত, এর আগেও তাঁর মৃত্যু নিয়ে গুজব ছড়িয়েছিল।ষ সেইসময় নিজেই টুইট করে গুজব উড়িয়ে বলেছিলেন, “টাইগার আভি জিন্দা হ্যায়।”

প্রসঙ্গত, উত্তরপ্রদেশের মাটির সঙ্গে ছিল তাঁর যোগাযোগ। অনুরাগীরা বলেন, জননেতা ছিলেন অমর সিং। কিন্তু ২০১০ সালে দলের প্রধান মুলায়ম সিং যাদবের সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ায় তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তার আগে অবশ্য তিনি নিজেই দলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তাফা দিয়েছিলেন। নিজের দল গড়ার ইচ্ছেও প্রকাশ করেছিলেন অমর সিং। তবে সেই দল তৈরি করেও বিশেষ সুবিধা করতে পারেননি তিনি। দলের কোনও প্রার্থীই নির্বাচনে জিততে পারেননি। পরে তিনি সমাজবাদি পার্টির সমর্ধনে রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হন।