গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে ফ্যানের ঝুলিয়ে দেওয়া অভিযোগ শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে

60

বিশ্বজিৎ মন্ডল, মালদাঃ শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলে গৃহবধূকে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে দেওয়া অভিযোগ উঠল শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাতে রতুয়া থানার কাহালা হরিপুর এলাকায়। এই ঘটনায় ৬ জনের নামে  রতুয়া থানায় গৃহবধূর পরিবার  অভিযোগ করলে পুলিশ গৃহবধূর শাশুড়ি ও স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে বাকিরা পলাতক। মৃত গৃহবধূর নাম পুতুল মণ্ডল তার বাড়ি রতুয়া থানার মাখাইয়া দেবীপুর এলাকায় গত ৭ মাস আগে রতুয়া কাহালা হরিপুর এলাকার বাসিন্দা সিন্টু মন্ডলের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই গৃহবধূর উপর অত্যাচার চালাত তার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা।

গৃহবধূর বাবা বিজয় মন্ডল জানান, তার জামাই সিন্টু মণ্ডল পেশায় একজন টোটো চালক বিয়ের সময় ঠিক হয়েছিল নগদ টাকা পয়সা সহ জামাইকে একটি মোটর সাইকেল কিনে দেওয়ার। কিন্তু সে সময় মোটর সাইকেলের টাকা সে সম্পূর্ণ জামাইকে দিতে পারেনি। ২৫ হাজার টাকা দিতে বাকি ছিল। যার দরুন জামাই সিন্টু মন্ডল ও তার পরিবারের লোকেরা তার মেয়ে পুতুল মন্ডল এর উপর অত্যাচার চালাত। টাকা  নিয়ে আনার জন্য বাবার কাছ থেকে চাওয়া হতো।

শুক্রবার সন্ধ্যায় মৃত গৃহবধূর বাবা বিজয় মন্ডল জানতে পারে তার মেয়ে পুতুল মণ্ডল গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। খবর পাওয়া মাত্র বিজয় মন্ডল রতুয়া থানায় এসে মেয়ের মৃতদেহ দেখতে পায়। তার অভিযোগ, তার মেয়ে কে শ্বশুরবাড়ির লোকেরা শ্বাসরোধ করে মেরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলিয়ে দিয়েছে। এই ঘটনায় মৃত গৃহবধূর বাবা রতুয়া থানায় জামাই সিন্টু মন্ডল শাশুড়ি আলতী মন্ডল শশুর রমেশ মন্ডল সহ তিন জনের নামে অভিযোগ করলে।

পুলিশ সিন্টু মন্ডল ও আলতি মন্ডল কে রতুয়া থানার পুলিশ গ্রেফতার করে। আর বাকিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। মৃত গৃহবধূর বাবার অভিযোগ মোটরসাইকেল কেনার ২৫০০০ টাকা না দেওয়ার কারণে তার মেয়েকে মেরে ফেলা হয়েছে। এদিকে রতুয়া থানার পুলিশ শুক্রবার রাতেই গৃহবধূর মৃতদেহটিকে মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে দেয়।