কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন উৎসবে বিক্ষোভের মুখে রাজ্যপাল

55

ওয়েব ডেস্ক, ২৮ জানুয়ারিঃ  আবারও বিক্ষোভের মুখে পরলেন রাজ্যের রাজ্যপাল জগদীশ ধনকর। তাকে ঘিরে চলল ‘গো ব্যাক’ শ্লোগান। এই অবস্থায় নজরুল মঞ্চের গ্রিনরুমে বসেই অভিজিৎ ব্যানার্জির ডিলিটে স্বাক্ষর করলেন উপাচার্য। মঙ্গলবার কোলকাতার ঢাকুরিয়ার নজরুল মঞ্চে আয়োজিত হয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন উৎসব।এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিলেন রাজ্যপাল।

এইদিন সেখানে তিনি উপস্থিত হলে তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরে সেখানে শুরু হয় পড়ুয়াদের বিক্ষোভ। উঠেছে ‘গো ব্যাক শ্লোগান’ ও। মূলত সিএএ ও এনআরসি’র বিরুদ্ধেই এদিন পড়ুয়ারা প্রতিবাদ দেখায়।  এমনকি রাজ্যপালকে কালো পতাকা দেখিয়ে ‘গো ব্যাক’ স্লোগানও দেয় পড়ুয়ারা।

শুধু তাই নয়, অনুষ্ঠানমঞ্চেও এদিন প্রতিবাদ দেখাতে থাকে পড়ুয়ারা। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় নজরুল মঞ্চের পিছনের গেট দিয়ে ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয় রাজ্যপাল তথা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য্য জগদীপ ধনকরকে। কিন্তু পড়ুয়াদের বিক্ষোভের জেরে সর্মাবতন অনুষ্ঠান শুরু করা যায়নি সময় মেনে।

এইসময় মাইক হাতে, উপাচার্য সোনালি বন্দোপাধ্যায় বারবার পড়ুয়াদের শান্ত হওয়ার অনুরোধ করছেন। এদিনের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানেই ডি-লিট পাওয়ার কথা ছিল নোবেলজয়ী অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁর হাতে এই সম্মান তুলে দেওয়ার কথা ছিল রাজ্যপাল তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য্য জগদীপ ধনকরের। কিন্তু পড়ুয়াদের প্রবল বিক্ষোভের জেরে কার্যত ধনকরকে

ছাড়াই অনুষ্ঠান শুরু করার কথা ভাবতে হয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। উপাচার্য সোনালী চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায়কে একসময় বলতে শোনা যায়, রাজ্যপালকে ছাড়াই সমাবর্তন অনুষ্ঠান হবে।

আচার্যেয়ের বদলে উপাচার্য হিসাবে তিনি নিজেই নোবেলজয়ী অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে ডি-লিট তুলে দেন। তাতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। মঞ্চের সামনে থেকে সরে যান আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা। তার পরই মঞ্চের অপর আসতে শুরু করেন বিশিষ্টজনেরা। শুরু হয় অনুষ্ঠান। এরপরে টুইটারে রাজ্যপাল জানান, অভিজিৎবাবুকে ধন্যবাদ। কিন্তু তাঁর হাতে ডিলিট না দেওয়ার বেদনা সারাজীবন মনে থাকবে।