পুরভোটের প্রচারে কোমর বেঁধে নামছে তৃণমূল

173

ওয়েব ডেস্ক, ১৯ জানুয়ারিঃ সেমি ফাইনাল গেমে জিততে মরীয়া তৃণমূল।শিয়রে পুরভোট।সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী এপ্রিল মাসে কলকাতা কর্পোরেশন সহ রাজ্যের অধিকাংশ পুরসভা গুলির নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।ইতিমধ্যে সংরক্ষণ তালিকা প্রকাশিত হয়েছে প্রশাসনিক ভাবে।ছোট লাল বাড়ির দখল নিতে এবারে কোমর বেঁধে নামছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল।

সূত্রের খবর, দলের রাজনৈতিক কৌশলগত পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোরের পরিকল্পনায় কাজ শুরু করেছে তৃণমূল। তৈরি হচ্ছে কলকাতা পুরসভায় বিগত পাঁচ বছরে তৃণমূল আমলের খতিয়ান। আগে কী ছিল, এখন কেমন হয়েছে। কী ছিল না, নতুন করে কী পেয়েছেন শহরবাসী।এসব নিয়েই তৈরি হচ্ছে বিস্তারিত বই এবং সিডি। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসেই বই প্রকাশ করা হবে।এই বইতে যাবতীয় উন্নয়নমূলক কাজের বিবরণ থাকবে। প্রকল্পের খরচ কত, কত মানুষ উপকৃত–সবই থাকবে।

ঠিক হয়েছে, কলকাতার মোট ১৪৪ টি ওয়ার্ড নিয়ে একটি বই এবং ওয়ার্ড ও বরোভিত্তিক আলাদা বই প্রকাশ করা হবে। এছাড়া প্রতিটি বরোভিত্তিক আলাদা আলাদা তথ্যচিত্র বা ভিডিও প্রেজেন্টেশনও বানানো হবে। পুরসভার করে ফেলা সেই সব উন্নয়নমূলক কাজের তালিকা এবার বই ও সিডির মাধ্যমে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ ঝকঝকে বই এবং তথ্যচিত্রের জন্য নামজাদা সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেই তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে খবর।

দলীয় সিদ্ধান্ত হলেও পুরভোটকে সামনে রেখেই সামগ্রিক কাজ করছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। একাধিক কমিটিও গড়া হয়েছে। কাজের সুবিধার জন্য কলকাতাকে ৫টি জোনে ভাগ করে কমিটি তৈরি হয়েছে৷ এই কমিটিই বই এবং সিডির বিষয়বস্তু বাছাই করবেন।

উত্তর কলকাতার জন্য গঠিত এই কমিটিতে আছেন ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ, কাউন্সিলর অনিন্দ্য রাউত। দক্ষিণ কলকাতার কমিটিতে রাখা হয়েছে মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার এবং বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কে।মধ্য কলকাতার কমিটিতে থাকছেন জীবন সাহা, ইন্দ্রাণী সাহা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বেহালার জন্য রত্না শূর এবং সুদীপ পল্লে।যাদবপুরের দায়িত্বে সুশান্ত ঘোষ, তারকেশ্বর চক্রবর্তী, অরূপ চক্রবর্তী। এই ৫ কমিটিতেই থাকছেন পুরসভার একাধিক তৃণমূল নেতা।

পানীয় জল সরবরাহের জন্য একাধিক বুস্টার পাম্পিং স্টেশন হয়েছে, নতুন পার্ক হয়েছে। বাড়ি তৈরির জটিলতা দূর করতে অনলাইন এবং ওয়ান উইন্ডো সিস্টেম চালু হচ্ছে। কালীঘাট মন্দিরের সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে, স্কাইওয়াক হচ্ছে।টালিনালার উপর একাধিক সেতু হয়েছে। মায়ের বাড়ির সংস্কার হচ্ছে। ইলেকট্রিক চুল্লি বেড়েছে।বাংলার বাড়ি প্রকল্পে গরিবদের বাড়ি ইত্যাদি বিষয়গুলিকে এই বই এবং সিডির মাধ্যমে তুলে ধরা হবে।আগেও এই ধরনের খতিয়ান প্রস্তুত হলেও, এবার সেই কাজ আরো বেশি করে পেশাদারিত্বের সঙ্গে করা হচ্ছে বলেই তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে খবর। যা অবশ্যই প্রশান্ত কিশোরের সৌজন্যে বলে জানা গেছে।