লকডাউন চলাকালীন রাস্তায় বেরিয়ে পুলিশের সাথে দাদাগিরি করার অভিযোগ তৃনমূল নেতার বিরুদ্ধে

121

ওয়েব ডেস্ক, ৫ আগস্টঃ করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি ঠেকাতে জুলাই মাসে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সপ্তাহে দুদিন করে লকডাউন জারি করার। সেইমতো জুলাই মাসের ২৩ তারিখ রাজ্য প্রথম লকডাউন জারি হয়। এরপর জুলাই মাসে হয়েছে তিনটি লকডাউন। আর ৫ই আগস্ট বুধবার আগস্ট মাসের প্রথম লকডাউন।

অন্যান্য লকডাউনের তুলনায় সাপ্তাহিক এই লকডাউনগুলিকে আরও কড়া ভাবে কার্যকর করতে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার। সেই নির্দেশিকা অনুযায়ী মাত্র কয়েকটি ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া ছাড়া বাকি হাট-বাজার, নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকান সবকিছু বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আর যখন রাজ্য সরকার করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে তৎপর তখনই শাসক দলের এক নেতাকে দেখা গেল পুলিশের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে দাদাগিরি করতে।

জানা গেছে, লকডাউন চলাকালীন রাস্তায় বেরিয়ে পুলিশের সাথে দাদাগিরি করার ঘটনা ঘটেছে বীরভূমের শান্তিনিকেতন থানা এলাকায়। শান্তিনিকেতন থানা এলাকায় শান্তিনিকেতন মোড়ে এদিন সকাল থেকে লকডাউন কার্যকর করতে কড়া পুলিশি নজরদারি জারি করা হয়। ঠিক সে সময় ওই রাস্তায় স্কুটি নিয়ে পেরিয়ে যাচ্ছিলেন বীরভূম জেলা কমিটির সদস্য তথা শান্তিনিকেতন অঞ্চলের তৃণমূলের ফাইভ ম্যান কমিটির সদস্য শ্যামাপ্রসাদ দাস ওরফে বাবু দাস। পুলিশ ওই তৃণমূল নেতাকে রাস্তায় বেরোতে দেখে তার পথ আটকায়। এরপরেই শুরু হয় পুলিশের সাথে ওই তৃণমূল নেতার বচসা। বচসার সময় তৃণমূল ওই নেতাকে রীতিমতো পুলিশের সাথে দাদাগিরি করতে দেখা যায়।

তৃণমূল ওই নেতার স্কুটি আটকালে ওই নেতা প্রথমেই পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ফোন করেন। এরপর সেই ফোনে কাজ না হলে তিনি শান্তিনিকেতন মোড়ে কর্তব্যরত পুলিশকে বলেন, ‘স্কুটি এখানে পড়ে রইলো, আপনারা বাড়ি দিয়ে আসবেন।” এখানেই শেষ নয় এরপরেও ওই তৃণমূল নেতাকে বলতে দেখা যায় অন্যান্য ঊর্ধ্বতন অধিকারীদের ফোন করার মতো হুঁশিয়ারি দিতে। পাশাপাশি কৈফিয়ত চাওয়া হয়, ‘কেন ডাম্পার ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে ?’

যদিও তৃণমূল নেতার এমন দাদাগিরি ও হুঁশিয়ারি এদিন কোনো কাজে আসেনি। অবশেষে তিনি পায়ে হেঁটেই পৌঁছান স্থানীয় তৃণমূল কার্যালয়ে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই তৃণমূল নেতার স্কুটিটি আটক করা হয়েছে বলে।

তবে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত ওই তৃণমূল নেতার দাবি, “তাদের পাড়ার এক যুবককে বিষধর সাপে কামড়েছে। সে এখন বোলপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি আছে। তাকে হয়তো অন্যত্র স্থানান্তরিত করা হতে পারে। যে কারণেই তিনি রাস্তায় বেরিয়ে ছিলেন।”

পাশাপাশি তিনি পুলিশের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে ফোন করার বিষয়ে জানান, “আমি আমার স্থানীয় ওসিকে আমার সমস্যার বিষয়ে জ্ঞাত করার জন্যই ফোন করেছিলাম।”