জামিয়ায় পড়ুয়াদের উপর গুলি চালানো যুবককে সম্মানিত করবে হিন্দু মহাসভা

225

ওয়েব ডেস্ক, ৩১ জানুয়ারিঃ নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ও জাতীয় নাগরিক পুঞ্জি আইনের বিরুদ্ধে প্রথম থেকে সরব হয়েছিল দিল্লির জামিয়া-মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। বৃহস্পতিবার জামিয়ায় চলা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে এক প্রতিবাদ মিছিলের উপর প্রকাশ্যে এক দুষ্কৃতীর গুলিতে আহত হয়েছিল এক ছাত্র। জামিয়ায় পড়ুয়াদের উপর হামলাকারীকে সম্মানিত করবে হিন্দু মহাসভা। জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের উপর হামলাকারী নাবালককে ‘সত্যিকারের দেশপ্রেমী’ বলে মনে করছে তাঁরা। গান্ধী হত্যাকারী নাথুরাম গডসের সঙ্গেও তাঁরা তুলনা করেছে উগ্র হিন্দুত্বাবাদী সংগঠনটি। একই সঙ্গে তাঁরা ঘোষণা করেছে, ওই হামলাকারী নাবালকের সমস্ত আইনি খরচ জোগাবে হিন্দু মহাসভা।

এই ঘটনার জেরে গোটা দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় বয়ে চলে। সকলেই এই দুষ্কৃতীর কড়া শাস্তির দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও এই ঘটনার কড়া ব্যবস্থার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু সেই দুষ্কৃতীকে এবার সম্মানিত করতে চাইছে হিন্দু মহাসভা।

এই ঘটনায় হিন্দু মহাসভার তরফে সংগঠনের মুখপাত্র অশোক পাণ্ডে বলছেন, “ও একটা প্রকৃত দেশপ্রমী। ঠিক নাথুরাম গডসের মতো। আমরা ওকে নিয়ে গর্বিত। ও দেশবিরোধীদের থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে।” পাণ্ডের দাবি, যাঁরা দেশবিরোধী, তাঁদের শাস্তি দিতে অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়াই যায়। তাছাড়া সংবিধান অনুযায়ীও শীতল মস্তিষ্কের খুন, আর আবেগের বশবর্তী হয়ে খুনের মধ্যে ফারাক আছে। অশোক পাণ্ডে বলছেন, “শারজিল ইমাম, বা আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়, কিংবা জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় বা জামিয়ার ক্যাম্পাসে যাঁরা দেশবিরোধী কার্যকলাপ চালায়, তাঁদের এভাবেই শাস্তি দেওয়া উচিত। ওঁরা গুলি খেয়ে মরারই যোগ্য।” সেই সঙ্গে হিন্দু মহাসভার ওই নেতা জানিয়ে দিয়েছেন, অভিযুক্ত নাবালককে রেহাই দেওয়ার জন্য, সমস্তরকম আইনি সহায়তা করবে তাঁদের সংগঠন। এই উগ্র ধর্মীয় দলটি শুক্রবার এক ঘোষণার মাধ্যমে জানায় যে নাথুরাম গডসের মত এক প্রকৃত দেশপ্রেমীর মত কাজ করেছে অভিযুক্ত বন্দুকবাজ।

পাশাপাশি তিনি নয়া নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদীদের মৃত্যুও কামনা করেছেন সংগঠনের মুখপাত্র। তিনি বলেছেন, “সব দেশবিরোধীদের শাস্তি দিতে হবে। শার্জিল ইমাম সহ আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়, জেএনইউ ও শাহিনবাগের যেসব মানুষ এমন দেশবিরোধী কাজ করবে, তাদের গুলি করেই মারা উচিত। “

গুলিচালনার সময়ে দর্শকের ভূমিকায় থাকা পুলিশ পরে ঐ দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করলে ছেলেটি স্পষ্টভাবে তার দোষ স্বীকার করেছে এবং এই ঘটনায় গর্ববোধও করেছে সে। পাশাপাশি নিজের প্রবল হিন্দুত্ববাদের পরিচয়ও দিয়েছে সে সকলের সামনে। হয়তো তারই জন্য পুরস্কার দিতে চাইছে এই উগ্র ধর্মীয় সংগঠন।