রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা হাসপাতালে না আসায় ক্ষোভ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের

82

কাজল রায়, মাথাভাঙ্গাঃ রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য অধিকর্তা পরিদর্শনে আসার কথা থাকলেও আসেননি এই পরিস্থিতিতে মাথাভাঙ্গা মহকুমা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একাংশের ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

এবিষয়ে মাথাভাঙা মহাকুমার হাসপাতাল এর সুপার ঘোষ বলেন, রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডক্টর অজয় চক্রবর্তীর আসার কথা ছিল হাসপাতালে, কিন্তু তিনি আসেননি। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে জানান, আজ হাসপাতাল চত্বরে রুটিনমাফিক আবর্জনা পরিষ্কার হচ্ছিল, সেই সময়ে কয়েকজন মিলে ওই কাজ বন্ধ করে দেয়।

এবিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আলিজার রহমান ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, দীর্ঘদিন থেকে হাসপাতালের বেহাল অবস্থা, নানান সমস্যায় ভুগছে হাসপাতাল, তার আরো অভিযোগ, হাসপাতাল প্রতিদিন পরিষ্কার করে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য অধিকর্তা আসবে বলেই তাকে দেখানোর জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নার্সিং স্টাফদের দিয়ে হাসপাতাল পরীক্ষায় পরিষ্কার করছে। এটা কোন মতেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা চাই হাসপাতাল প্রত্যেকদিন পরিষ্কার হোক, হাসপাতালে যেগুলো সমস্যা আছে তা সমাধান করার ব্যবস্থা করুক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন হাসপাতাল সুপার ডক্টর দেবদ্বীপ ঘোষ।

তিনি বলেন, হাসপাতাল প্রত্যেকদিনই পরিষ্কার করা হয়। পৌরসভা থেকে সপ্তাহে দুদিন গাড়ি এসে আবর্জনা নিয়ে যায়। আজকে উপর সবার গাড়ি এসে রুটিনমাফিক আবর্জনা নিতে আসে। স্বাস্থ্য অধিকর্তা আসার জন্য আজ পৌরসভা থেকে নতুন করে কোন গাড়ি এনে আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়নি।

সুপার সহ একাধিক চিকিৎসক ও নার্সদের কথায় স্বাস্থ্য ভবন এগিয়ে অতি সহজেই স্বাস্থ্য অধিকর্তা সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় না। আজকে একটা বড় সুযোগ ছিল হাসপাতালে সমস্যা তুলে ধরা এবং হাসপাতালে উন্নয়নের জন্য প্রস্তাব দেওয়া। স্বাস্থ্য অধিকর্তা আজ না আসায় বিশাল সুযোগ আমাদের হাতছাড়া হলো, মাথাভাঙা মহাকুমার হাসপাতাল আগের থেকেই রোগীর চাপ অনেকটাই বেড়েছে। স্বল্প ডাক্তার নার্সিং স্টাফ অন্যান্য কর্মচারীদের মধ্য দিয়েই এই হাসপাতাল ভালো পরিষেবা দিয়ে চলছে। কতিপয় কয়েকজন আজকে যে ঘটনা ঘটিয়েছে তা সত্যিই দুঃখজনক। কোন সমস্যা থাকলে সুপার এর সাথে আলোচনা করে সমস্যা সমাধান তাছাড়া ভালো কিছু প্রস্তাব থাকলে সৌজন্য বিনিময়ের মধ্যে দিয়ে তা করা যেতে পারত।

ডাক্তারবাবুদের একাংশের মতে, সম্ভবত সকালবেলা থেকে হাসপাতাল একটা চাপা গুঞ্জন এবং বিক্ষোভের মত অবস্থা তৈরী হচ্ছিল বলে তা হয়তো কোন সূত্রের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিকর্তা জানতে পেরেছেন বলেই হয়তো তিনি মহাকুমা হাসপাতাল এ আসেননি বলে ধারণা।

প্রসঙ্গত, রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী কোচবিহারে এসেছেন। তিনি বিভিন্ন মহাকুমা হাসপাতাল পরিদর্শনে যাবেন বলে খবর। মাথাভাঙ্গা আসার আগে তিনি মেখলিগঞ্জ হাসপাতালে দর্শন করেন। মেখলিগঞ্জ হাসপাতাল থেকে সরাসরি মাথাভাঙা মহাকুমার হাসপাতাল আসার কথা ছিল স্বাস্থ্য অধিকর্তা। সবকিছু প্রস্তুতি থাকার পরেও শেষমেষ রণেভঙ্গ দেন স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডক্টর অজয় চক্রবর্তী। এনিয়ে বেশ চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মাথাভাঙা মহাকুমার হাসপাতাল।