বিয়ের এক বছর কাটতে না কাটতেই প্রান গেল গৃহবধুর, তদন্তে পুলিশ

115

বিশ্বজিৎ মন্ডল, মালদা: এক গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য এলাকায়। খুন না আত্মহত্যা তা নিয়ে ধন্দে পুলিশ। গৃহবধূর নাম রিঙ্কু সরকার। তার বাপের বাড়ি মালদা জেলার মানিকচক নুরপুর শ্যামলাল পাড়ায়।

জানা গেছে, গত এক বছর আগে ধরমপুর চৌকির মঙ্গল সরকারের সঙ্গে বিয়ে হয় রিংকুর। বিয়ের পর থেকে অশান্তি লেগেই থাকত। মৃত গৃহবধূর স্বামী বর্তমানে ভিন রাজ্যে কর্মরত। বিয়ের পর এক বছরের বেশিরভাগ সময়ই কাজের জন্য মঙ্গল ভিন রাজ্যে ছিলেন।

অভিযোগ, শ্বশুর বাড়ির জা, ননদ ও মাসি শাশুরির সাথে রিংকুর ঝামেলা লেগেই থাকত। আর সামান্য কারণেই রিংকুর উপর চলত অত্যাচার। চলত মারধর। এমনকি ভিন রাজ্য থেকে স্বামী সংসার খরচের টাকা পাঠালেও সেই টাকা হাতে পেত না রিঙ্কু। আর শ্বশুর বাড়ির লোকজনের কাছে টাকা চাইতে গেলেই চলত মারধর। রিঙ্কু বেশ কয়েকবার তার বাপের বাড়ির লোকজনকে জানিয়েছে তার উপরে অত্যাচারের কথা। কয়েকদিন আগে রাখি বন্ধনে বাপের বাড়ি গিয়ে তাকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন মেরে ফেলতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করে রিঙ্কু। আর শনিবার রাতে রিংকুর মৃত্যুর খবর শুনে রিংকুর বাপের বাড়ির লোকজনের সন্দেহ রিঙ্কু কে খুন করা হয়েছে।

যদিও গৃহবধূর শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের দাবি, আত্মহত্যা করেছে রিঙ্কু। কিন্তু তাদের দাবি মানতে নারাজ গৃহবধুর বাপের বাড়ির লোকজন। জানা গেছে, রিংকুর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি শনিবার সকাল থেকে ঘরের দরজা খুলে নি গৃহবধূ রিঙ্কু। তাদের সন্দেহ হওয়ায় ঘটনাটি মানিকচক থানায় জানানো হয়। শনিবার গভীর রাতে মানিকচক থানার পুলিশ রিঙ্কুকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। রবিবার সকালে রিঙ্কুর বাপের বাড়ির লোকজন গৃহবধূ রিঙ্কুকে হত্যা করা হয়েছে দাবি জানিয়ে মানিকচক থানা চত্বরে ক্ষোভে ফেটে পড়ে।

তাদের দাবি, রিঙ্কুর স্বামী মঙ্গলের ষড়যন্ত্রে গৃহবধূকে হত্যা করা হয়েছে। রিংকুর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন দের বিরুদ্ধে হত্যার প্রতিবাদে লিখিত অভিযোগ মানিকচক থানায় দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমেছে মানিকচক থানার পুলিশ। তবে ঘটনার পর থেকে গৃহবধূর শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক। গৃহবধূর মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে এটি আত্মহত্যা না খুন সে ব্যাপারে এখনও মুখ খুলে নি পুলিশও।