ধর্মঘটের সক্রিয় বিরোধিতায় আইএনটিটিইউসি, কোচবিহারে বনধে ব্যাপক সাড়া

136

কোচবিহার, ৮ জানুয়ারিঃ শুধু প্রশাসনিক ভাবেই নয়, এবারে রাজনৈতিক ভাবে বনধের বিরোধিতা করল তৃণমূল কংগ্রেস। বুধবার দেশজুড়ে ২৪ ঘণ্টার বনধ আহ্বান করেছিল কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলি। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন সহ শ্রমিকের নুন্যতম মজুরি, সমকাজে সমবেতন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি সহ একাধিক দাবীকে সামনে রেখে কেন্দ্র বিরোধী আন্দোলনে সামিল হয় বাম ও কংগ্রেস সমর্থকেরা। যদিও এরাজ্যে এ ইস্যুকে সমর্থন করে তৃণমূল কংগ্রেসও। ইস্যুকে সমর্থন করলেও বনধে সামিল হওয়া দুরস্থ। বনধ ব্যর্থ করতে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায় আইএনটিটিইউসি কর্মীদের। এদিন কোচবিহারে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাস চত্বরে দলীয় পতাকা নিয়ে বনধের বিরোধিতায় সরব হয় তাঁরা। প্রশাসনিকভাবে বনধকে ব্যর্থ করতে কড়া পদক্ষেপ গ্রহন করে নবান্নও। এদিন ছুটি বাতিল হয় সরকারি কর্মচারীদের।

এবিষয়ে কোচবিহারের জেলাশাসক পবন কাডিয়ান বলেন, ১০০ শতাংশ কর্মীকেই কাজে যোগদানের কথা বলা হয়েছে। আশা করছি সকলেই কাজে যোগদান করেছে।

এদিকে বনধকে ঘিরে সকাল থেকেই রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ ছিল জেলাজুড়ে। বনধ সমর্থনকারীদের সাথে পুলিশের দফায় দফায় বচসা ও গোলমাল হয়।আটক করা হয় বনধ সমর্থনকারীদের। বনধকে ঘিরে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও ৫ বনধ সমর্থনকারীকে কোচবিহার সদর ও তুফানগঞ্জ থেকে আটক করা হয়েছে বলে জানান কোচবিহারের পুলিশ সুপার সন্তোষ নিম্বালকর।

এদিন কোচবিহার সহ গোটা রাজ্যে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহনের অতিরিক্ত বাস পরিষেবা দিয়েছে বলে জানান এনবিএসটিসির চেয়ারম্যান অপূর্ব সরকার।

বনধ সমর্থনকারীদের দাবি, গোটা রাজ্যেই বনধ সর্বাত্মক হয়েছে। জেলা সিআইটিইউ-এর সভাপতি তারিণী রায় বলেন, দেশ বিপন্ন তাঁর সাথে সাথে সংবিধানও বিপন্ন, এমনকি শ্রমিকদের ভবিষ্যৎও সঙ্কটের মধ্যে রয়েছে। এই বিপন্নতা বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই।এদিনের বনধ কোচবিহারে সম্পূর্ণ সফল হয়েছে। পুলিশ দিয়ে কিছু সরকারী বাস চালানো হলেও তাতে যাত্রী সংখ্যা ছিল খুবই কম।

এই বনধ প্রসঙ্গে কোচবিহার জেলা তৃণমূল নেতা তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী রবীন্দ্র নাথ ঘোষ বলেন, মানুষ বনধ চায় না। তাই কোচবিহার সহ উত্তরবঙ্গের কোথাও বনধের প্রভাব পড়েনি। বামেদের পুরনো মরচে ধরা বনধ সংস্কৃতি ২১ শতকে এসে চলে না। মানুষ এই বনধকে কোনওভাবেই সমর্থন করেনি।

এদিকে বনধ নিয়ে কোচবিহার জেলা বিজেপি সভানেত্রী মালতি রাভা বলেন, বনধ নিয়ে এরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দ্বিচারিতা করেছেন। তারই প্রত্যক্ষ মদতে এই বনধ হয়েছে।

এদিনের ধর্মঘটে দোকান বাজার ছিল সম্পূর্ণ বন্ধ।বেসরকারি যাত্রী পরিবহণ ও মাল পরিবহন চোখে পরেনি। স্কুল কলেজ বন্ধ থাকলেও সরকারি কার্যালয় গুলি ছিল খোলা। সব মিলিয়ে বন্ধে মিশ্র সাড়া পরে কোচবিহারে।