রক্ষকই ভক্ষক, ল্যাপটপ চুরির আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের মূল পান্ডা বিএসএফ সহ গ্রেপ্তার ৫

658

ওয়েব ডেস্ক, ২৫ অক্টোবর: ল্যাপটপ,কম্পিউটার চুরির সূত্র ধরে আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের পাঁচ পান্ডাকে গ্রেপ্তার করলো পুলিশ। এই ঘটনায় ধৃতদের মধ্যে বিএসএফের এক জওয়ান ও তার স্ত্রী। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলার জয়নগর থানার কুলপি রোড এলাকা থেকে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে বারুইপুর পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ ও জয়নগর থানার পুলিশ। ধৃতদের বৃহস্পতিবার বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করে, পুলিশি হেফাজতে নেয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ধৃত ওই ৫ জনের নাম বিএসএফ জওয়ানের নাম দীপঙ্কর হাজরা, তার স্ত্রী রাখি হাজরা আর বাকি তিনজন মধ্যে দু’জনের একজন গাড়ির চালক ও অন্য জনের নাম ওয়াসিম শেখ। সে দীপঙ্করেরই বন্ধু। তার সূত্র ধরে আরো একজনকে গ্রেপ্তার করা হয় তার নাম সানোয়ার বৈদ্য। গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে জেলা পুলিশের স্পেশাল অপারেশান গ্রুপ ও জয়নগর থানার পুলিশ যৌথ ভাবে অভিযানে নেমে জয়নগর থানা এলাকার কুলপি রোডে নজরদারি শুরু হয়।

সেসময় একটি সুমো গাড়িতে করে এক ব্যক্তি সস্ত্রীক মন্দিরবাজারের দিক থেকে বারুইপুরের দিকে আসছিলেন। সন্দেহ হওয়ায়, গাড়িটিকে দাঁড়ি করিয়ে ২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তাদের কথাবার্তায় সন্তুষ্ট হতে না পেরে গাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। ওই গাড়ি থেকে এগারোটি ল্যাপটপ,পাঁচটি সিপিইউ ও ছ’টি মনিটার পাওয়া যায়। বিল দেখাতে না পারায়,পুলিশের সন্দেহ হয়। সেগুলি বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। গাড়িতে থাকা চার জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে তাদের মধ্যে একজন পেশায় বিএসএফ জওয়ান। তার নাম দীপঙ্কর হাজরা এই পাচার চক্রের মূল পান্ডা। জানা গেছে, স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মন্দিরবাজার এলাকা থেকে চোরাই ল্যাপটপ, কম্পিউটার পাচারের সে ব্যবসা করত।

জানা গেছে, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এই জওয়ান মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের বাসিন্দা সে বর্তমানে শ্রীনগরে পোস্টিং রয়েছে। ওই বিএসএফ জওয়ান ছুটিতে বাড়িতে এলে সে এই চোরা কারবার করে বলে জেরায় জানতে পেরেছে পুলিশ। মুর্শিদাবাদ হয়ে এইসব চোরাই মালপত্র বাংলাদেশে পাচার করা হতো বলে জেরায় স্বীকার করে দীপঙ্কর। ধৃতদের জেরা করে পাচারচক্রে জড়িত সানোয়ার বৈদ্য নামে আরও একজনের নাম পুলিশ জানতে পেরেছে। পরে তাকে মন্দিরবাজার থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সানোয়ারের কাছ থেকেও ১৭ ল্যাপটপ, পাঁচটি সিপিইউ ও ছ’টি মনিটার উদ্ধার করে পুলিশ। বিভিন্ন জায়গা থেকে সানোয়ারই চোরাই জিনিসপত্র কিনে, সেগুলি দীপঙ্করের কাছে বিক্রি করত বলে পুলিশ তদন্তে জেনেছে। এই চক্রে আরও কেউ আছে কি না, পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।