কেরালা বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপিকে পরাজিত করে ২ আসন দখল নিল বামেরা

278

ওয়েব ডেস্ক, ২৪ অক্টোবরঃ ত্রিপুরাতেও পর্যুদস্ত হয়েছে বামেরা। লাল পতাকার শেষ আশা হয়ে জেগে রয়েছে কেরালা। আর সেই আশা যে খুব একটা অবাস্তব নয়, তা আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেল। বুধবার হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের মধ্যে কিছুটা চাপাই পড়ে গেল কেরালার ৫টি কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফল। কেরালা বিধানসভা উপনির্বাচনে দুটি আসনে জয়ী বাম ও গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এলডিএফ) প্রার্থী। ফলে এলডিএফ-র আসন সংখ্যা ৯১ থেকে বেড়ে হল ৯৩। গত মাসেই পালা কেন্দ্রে ৪৫ বছর পর জয় লাভ করে এলডিএফ। এর ফলে এবারের বিধানসভা উপনির্বাচনে বাম প্রার্থীদের পক্ষে ২ টি কেন্দ্রে জয়লাভ করার বিষয়টি সহজ হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত নির্বাচনে কংগ্রেসের দখলে থাকা কোনি, ভাত্তিয়ুরকাভু বিধানসভায় জয়লাভ করে সিপিএম। অন্য দিকে আরুর, এর্নাকুলাম দখল নিয়েছে কংগ্রেস। ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ নিজেদের পুরনো মঞ্জেশ্বর আসনটি দখলেই রেখেছে। ভোট শতাংশের নিরিখেও সবার আগে রয়েছে সিপিএম। ৩২ শতাংশ ভোট মিলেছে লালদের। কংগ্রেস ২৮ শতাংশ এবং বিজেপি ২৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে।

অপরদিকে কোন্নি বিধানসভা কেন্দ্রেই সবরিমালা মন্দিরে সব বয়সী মহিলাদের প্রবেশাধিকারের বিরুদ্ধে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে তীব্র প্রচার চালিয়েছিল সংঘ পরিবার। অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো উপনির্বাচনে বিজেপিকে বেছে নেবে মানুষ। কিন্তু সব ভবিষ্যতবাণীকে উল্‌টে দিয়ে সাধারণ মানুষ বামপন্থাতেই বিশ্বাস রেখেছেন এবং বিজেপিকে তৃতীয় স্থানে রেখেছেন।

এই ফলাফলে আবারও প্রমাণিত হল অন্যান্য রাজ্যে যতই গেরুয়া ঝড় উঠুক, কেরালায় এখনও দাঁত ফোঁটাতে ব্যর্থ মোদী-অমিত শাহরা। লোকসভা নির্বাচনে প্রায় ৩৩ হাজার ভোটে পিছিয়ে পড়লেও রাজ্য জুড়ে সেই ভরাডুবির ধাক্কা কাটিয়ে গত মাসেই কেরলের পালা বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে জয়ী হয় সিপিএমের নেতৃত্বাধীন এলডিএফ। এরপরই এই উপনির্বাচনে ভাত্তিয়ুরকাভু এবং কোনি আসনে জয়, ফের লড়াইয়ের মঞ্চে বামশক্তির ফিরে আসার ইঙ্গিতবাহক, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।