‘বামেরা এমন মার আরও খাবে’, জেএনইউ কাণ্ডে মন্তব্য দিলীপের

318

ওয়েব ডেস্ক, ৬ জানুয়ারিঃ জেএনইউয়ে বাম ছাত্রদের উপর হামলার ঘটনাকে পরোক্ষে ভাবে সমর্থন করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। হামলাকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘বামেরা মার খেলেই যত গোলমাল হয়। কিন্তু বিভিন্ন রাজ্যে যখন এবিভিপি মার খায় কেউ পথে নামেন না। বামেদের মার খাওয়ার সময় এসেছে, এমন ঘটনা এবার আরও ঘটবে।’

সোমবার দিলীপবাবু জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় তাঁর প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে জানিয়েছেন, ‘এবার হিসাব বরাবর হচ্ছে। শিক্ষাঙ্গনে মারামারি কারা আমদানি করেছে? কমিউনিস্ট আর কংগ্রেসিরা। ওরা যা-যা করেছে আজ তার ফল পাচ্ছে। আর রাজ্যের শাসক দলের সহমর্মিতা প্রসঙ্গে বলি, যখন বাবুল সুপ্রিয়কে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে মারা হলো, হেনস্তা করা হল, তখন কোথায় ছিল রাজ্য সরকারের সহমর্মিতা? বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশ বিরোধী কাজ হবে, আর সকলে চুপ করে বসে থাকবে সেটা তো হয় না! তবে হ্যাঁ, যারা এসব করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

বিরোধীরা এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে এহেন দিলীপ উবাচের তীব্র বিরোধীতা তো শুরু করেইছে, উপরন্তু তারা এখন জোর গলায় দাবি করছে জেএনএইয়ের ঘটনায় যে বিজেপিই জড়িত তা দিলীপবাবুর বক্তব্যেই প্রমাণিত। বস্তুত এদিন সকাল থেকেই বিজেপির নেতারা জেএনইউয়ের ঘটবার জন্য নিজেদের কাঁধ থেকে দায় ঠেলে কংগ্রেস ও বামপন্থীদের দিকে ঠেলে দিতে চাইছে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে দিলীপবাবুর উক্তি কার্যত স্বীকারোক্তির পর্যায়ে চলে গিয়েছে। তাই অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে গেরুয়া শিবিরকেও।

অন্যদিকে, জেএনইউ-এর ঘটনাকে ‘ফ্যাসিস্ট সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ বলে বর্ণনা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ প্রসঙ্গে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে দুষে দিলীপ বলেন, ‘‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের মন্ত্রীকে (পড়ুন, বাবুল সুপ্রিয়) মারা হল, চুলের মুঠি ধরে টানা হল। তখন মমতার বিবেক জাগেনি? রাজ্যপালকে গো ব্যাক স্লোগান দিচ্ছে, তখন নিন্দা জানাননি। কে কাকে মেরেছে উনি-আমি কেউই বলতে পারব না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মায়া কান্না কাঁদছেন। যাঁরা দেশবিরোধী, তাঁদের জন্য ওঁর হৃদয় কাঁপে। ওঁর উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ হয়’’।