শিক্ষক বন্ধুপ্রকাশের বৃদ্ধা মায়ের দেখভালের দায়িত্বভার নিলেন রাজ্যের শ্রম প্রতিমন্ত্রী

430

মুর্শিদাবাদ, ১২ অক্টোবরঃ জিয়াগঞ্জে সপরিবারে খুন হওয়া শিক্ষক বন্ধুপ্রকাশ পালের বৃদ্ধা মা মায়া পালের দেখভালের সমস্ত দায়ভার নিজে নিলেন রাজ্যের শ্রম প্রতিমন্ত্রী তথা জঙ্গিপুরের বিধায়ক জাকির হোসেন। শুক্রবার দুপুরে রঘুনাথগঞ্জের তালায়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি একথা ঘোষণা করেন। আগামী ১৭ অক্টোবর সাগরদিঘির সাহা পাড়ায় বৃদ্ধা মায়া পালের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন তিনি। এদিন মন্ত্রী বলেন, আমি শারীরিক ভাবে অসুস্থ। চিকিৎসার জন্য শুক্রবারই দিল্লি যাব। তারপর ফিরে এসেই মায়াদেবীর সঙ্গে দেখা করে, তাঁর সুবিধা অসুবিধার কথা শুনব। প্রয়োজনে তাঁর সমস্ত দায় ভারও গ্রহণ করব। কারণ উনিও আমার মায়ের মতো।

প্রসঙ্গত, ৮ অক্টোবর মঙ্গলবার সাগরদিঘির ১৭ নম্বর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বন্ধুপ্রকাশ পাল, স্ত্রী বিউটি পাল ও তাদের সাত বছরের সন্তান অঙ্গন খুন হয়। জিয়াগঞ্জের লেবুবাগানের বাড়িতে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এদিকে মৃত শিক্ষককে বিজেপি–র কর্মী বলে দাবি করেছেন দিলীপ ঘোষ।

মুখ খুলেছেন রাজ্যপাল জগদীশ ধনকড়। ঠিক সেই সময় মৃত শিক্ষকের অসহায় বৃদ্ধা মায়ের সমস্ত দায়ভার গ্রহণ করে পাশে এসে দাঁড়ালেন মন্ত্রী জাকির হোসেন। এদিন তিনি বলেন, ‘‌মুর্শিদাবাদ জেলায় গন্ডগোল তৈরির চেষ্টা করছে বিজেপি। মুর্শিদাবাদের মানুষ ধর্মনিরপেক্ষ। এধরনের বিভেদের রাজনীতি পছন্দ করে না। বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশে পিটিয়ে মারা হলে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয় না। অথচ জিয়াগঞ্জে একটি খুনের ঘটনাকে নিয়ে রাজনীতি করছে বিজেপি।’‌

যদিও মৃত শিক্ষকের পরিবারের দাবি, কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না মৃতরা কেউ। মন্ত্রীর দাবি, বিজেপি এনআরসি চালু করে অসমে ১৪ লক্ষ হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে বন্দি করা হয়েছে। বিজেপি–র শাসনকালে দেশের অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দিয়েছে। মানুষ বিজেপি–র প্রতি বীতশ্রদ্ধ। একটি খুনের ঘটনায় রাজনৈতিক রং লাগিয়ে ফায়দা তুলতে মুর্শিদাবাদে আসছেন বিজেপি–র রাজ্য নেতৃত্ব। ওরা উত্তেজনা ছড়াতে চাইছে। মুর্শিদাবাদ বাসীকে এবিষয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান তিনি।

পাশাপাশি মন্ত্রী জাকির হোসেন বলেন,‘‌মৃত শিক্ষকের পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রয়েছে। সব রকম সাহায্য করা হবে। বৃদ্ধা মায়া পালের সমস্ত দায়ভার আমি গ্রহণ করলাম। সব সময় সন্তান হিসাবে মায়াদেবীর পাশে থাকব।’‌‌‌‌‌‌