কলেজ কর্তৃত্ব কার হাতে থাকবে তা নিয়ে কোচবিহারে মন্ত্রী বনাম বিধায়কের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে

1678

তুফানগঞ্জ, ২৫ ডিসেম্বরঃ কলেজের কর্তৃত্ব কার হাতে থাকবে এই নিয়ে তৃণমূলের দুই বিধায়কের তর্জায় জমজমাট কোচবিহার জেলার রাজনীতি। ফের তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে। কোচবিহারের তৃণমূল কংগ্রেসের এক সময়ের অন্যতম শীর্ষ নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুললেন দলেরই এক বিধায়ক এবং পুরপ্রধান। একসময়ের রবিবাবুর ঘনিষ্ঠ এই দুইনেতা রীতিমত সাংবাদিক সম্মেলন করে রাজ্যের মন্ত্রী তথা নাটাবাড়ি কেন্দ্রের বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ঘোষের বিরুদ্ধে জোর করে কর্তৃত্ব কায়েমের অভিযোগ আনেন।

কোচবিহার জেলার তুফানগঞ্জ বিধানসভার বিধায়ক ফজল করিম মিঞা ও তুফানগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান অনন্ত বর্মা এদিন সাংবাদিক মুখোমুখি হয়ে অভিযোগ করেন, তুফানগঞ্জ মহাবিদ্যালয়টি ভৌগলিকভাবে তুফানগঞ্জ বিধানসভার মধ্যে অবস্থান হলেও তা জোর করে নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যার ফলে ওই মহাবিদ্যালয়ের কোন কমিটিতেই নেই স্থানীয় বিধায়ক। অথচ সেখানে কর্তৃত্ব করছেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা নাটাবাড়ি কেন্দ্রের বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ঘোষ।

বুধবার সাংবাদিকদের কাছে স্থানীয় বিধায়ক ফজল করিম মিঞা বলেন, মহাবিদ্যালয়টির হোল্ডিং নম্বর অনুযায়ী তুফানগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে। তারা তুফানগঞ্জ পৌরসভাকে করও দেয়। অথচ কোন এক অজ্ঞাত কারণে নাটাবাড়ি কেন্দ্রের কলেজটির অবস্থান দেখিয়ে ক্ষমতা জাহির করছেন রবিবাবু। এরফলে কলেজ উন্নয়নের জন্য বিধায়ক কোটার টাকাও দিতে পারছেন না বলে মন্তব্য করছেন তিনি।

পাশাপাশি এদিন তুফানগঞ্জ পৌরসভার পৌরপতি অনন্ত বর্মার বাড়িতে সাংবাদিক সম্মেলন করে রবিবাবুর বিরুদ্ধে বিধায়কের পর ক্ষোভ উগড়ে দেন পুরপ্রধানও। তিনি বলেন, কোন এক অজানা কারণে নাটাবাড়ি বিধানসভার মধ্যে দেখানো হয়েছে কলেজকে। অভিযোগ, রবিবাবু এই কেন্দ্রের বিধায়ক হবার পরেই এই ভৌগলিক পরিবর্তন হয় কলেজের অবস্থানের।

পুরপ্রধানের অভিযোগ, তিনি নিজে ওই কলেজের গর্ভনিং বডির সভাপতি হলেও তাঁকে অন্ধকারে রেখে কলেজের গোটা কর্মকাণ্ড পরিচালনা হচ্ছে। নাটাবাড়ি কেন্দ্রের বিধায়কের উদ্যোগে। অনন্তবাবু নিজে এও স্বীকার করেন তাঁকে ওই পদে বসিয়ে ছিলেন রবিবাবুই। অথচ তাঁকে এখন অপমানিত করা হচ্ছে। অবস্থা এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে নিজের পদ থেকে পদত্যাগের সিধান্ত নিতে পারেন তিনি।

এদিকে দলেরই নেতা তথা রাজ্যের এক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে, দলেরই আরেক বিধায়ক ও পুর প্রধানের এই ধরণের অভিযোগে অস্বস্তিতে পরেছে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা নেতৃত্ব। যদিও এবিষয়ে কোন মন্তব্য করতে নারাজ রবিবাবু।

জেলার তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এখন অনেকটাই কোন ঠাসা রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। তাঁর এক সময়ের কাছের সঙ্গীরা অনেকেই এখন তাঁর থেকে দূরে সরেছে। কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রে এবারে বিজেপির জয়ের পর জেলা সভাপতির পদ খোয়াতে হয় তাঁকে। বর্তমানে শারীরিকভাবে তিনি কিছুটা অসুস্থ রয়েছেন। এই অবস্থায় রবিবাবুর বিরুদ্ধে এই ধরণের তোপ নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে।

তবে তুফানগঞ্জে ২ নেতার এধরনের আচরণ দল ছেড়ে বিজেপিতে যাবার ইঙ্গিত কিনা এনিয়ে প্রশ্ন করা হলে অনন্তবাবু তার উত্তরে বলেন, দল কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। আমরা মমতা ব্যানার্জির আদর্শে দল করি। দল ছাড়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না।

সম্প্রতি ঐতিহ্যবাহী কোচবিহার রাসমেলা পরিদর্শনে আসেন মমতা ব্যানার্জি। এখানে এসে একটি কর্মী সভাও করেন তিনি। সেখানে তিনি কর্মী সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার কথা বলেন। সেখানে জেলার এক দাপুটে নেতাকে ধমক দিয়ে বলেন, “নেতাদের কাজিয়ায় দল বিষ গিলবে না”। নেত্রীর ওই কড়া বার্তার পরেও প্রকাশ্যে ফের তৃণমূল এই বিবাদে নতুন করে জলঘোলা হচ্ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।