রাজনৈতিক সংঘর্ষে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে খুন হলেন মা

226

পার্থ দাস, বীরভূমঃ ছেলে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি যাওয়ায় তাকে খুনের চেষ্টা করে কিছু তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী, আর তাঁদের হাত থেকে নিজের ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে বেঘোরে প্রান হারালেন মা। ঘটনাটি ঘটেছে, নানুর থানার অন্তর্গত হাটসেরান্দি এলাকায়। জানা গেছে মৃত ওই মহিলার নাম শঙ্করী বাগদি। তার বাড়ি হাটসেরান্দি এলাকায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ওই গ্রামে তৃণমূল ও বিজেপি দু’পক্ষের মধ্যে আচমকাই সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সেই মুহূর্তে ওই মহিলার ছেলে সেখানে থাকায় তাকে বাধা দিতে যান তিনি। সেই সময় দুপক্ষের মধ্যে কোনও এক পক্ষের ছোড়া গুলি হঠাৎই এসে লাগে তার গায়ে। ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। এরপর সেখানেই মৃত্যু হয় তার।

ঘটনায় মৃতার ছেলে অভিযোগ করে বলেন, আমার মাকে তৃণমূলের হার্মাদ বাহিনীর দুষ্কৃতীরাই গুলি করেছে। এর পাশাপাশি সে আরও অভিযোগ করে বলে, “ আমি আগে তৃণমূল দল করতাম। এখন বিজেপি করি। তাই অনুব্রত মণ্ডলের অনুগামিরা আমাকে কিছুদিন আগে হুমকি দেয় এই গ্রামে থাকতে গেলে তৃণমূল ছাড়া অন্য দল করা যাবে না। এখানেই শেষ নয়, আমাকে খুন করতেও এসেছিল ওরা। কিন্তু আমাকে বাঁচাতে গিয়ে মায়ের বুকে গুলি লাগে।ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার”। ঘটনায় অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে ওই এলাকার পরিস্থিতি। এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে বোলপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরে তাঁরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনা প্রসঙ্গে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রনিত। এর সাথে তৃণমূলের কোন যোগ নেই। আমাদের দল হিংসার রাজনীতি করে না বলেও জানান তাঁরা।

অন্যদিকে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বরা বলেন, তৃণমূলের পায়ের তলার মাটি সরে যাওয়ায় তাঁরা গ্রামে গ্রামে মানুষ মারার রাজনীতির খেলায় মেতেছে। এর সাথে বিজেপির কোনও যোগ নেই। পাশাপাশি তাঁরা এও বলেন, আমাদের দলের কেউ যদি এধরনের ঘটনা ঘটায় তাহলে দলই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।