দিনহাটায় ব্যাঙ্ক জালিয়াতির ঘটনায় ধৃতদের দিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করল পুলিশ

407

দিনহাটা, ২৫ নভেম্বরঃ ব্যাংক জালিয়াতির ঘটনায় তিন ধৃতদের দিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করল পুলিশ। আজ দিনহাটার নিগমনগরে উত্তরবঙ্গ ক্ষেত্রীয় গ্রামীণ ব্যাংকের একটি শাখায় ওই ব্যাংক জালিয়াতির ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হয়। এদিন সকালে দিনহাটা থানার আইসি সুরজ থাপার নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ধৃত ৩ জনকে ওই ব্যাংকের শাখায় নিয়ে যান। সেখানেই মূল ঘটনা কি ঘটেছিল, এবং ঘটনা প্রকাশ্যে আসার দিন কিভাবে চিত্রনাট্য তৈরি করা হয়েছিল, সেটা অভিযুক্তদের থেকে জানতে চান তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকেরা।

মঙ্গলবার দিনহাটার নিগমনগরে উত্তরবঙ্গ ক্ষেত্রীয় গ্রামীণ ব্যাঙ্কের ওই শাখায় সাড়ে ১৯ লক্ষ খোয়া যাওয়ার ঘটনা প্রথম প্রকাশ্যে আসে। সেই দিন ব্যাংক কর্মীরা প্রথমে ডাকাতি হয়েছে বলে দিনহাটা থানার পুলিশকে ফোন করে জানায়। পরে ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে ওই ঘটনার সাথে ব্যাংক কর্মীরাই জড়িত। এরপরেই ক্যাশিয়ার আতারুল হোসেন, অরিজিৎ ভৌমিক এবং ক্যাজুয়াল স্টাফ চন্দ্র শেখর বর্মণকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ জানতে পারে, ক্যাশিয়ার আতারুল হোসেন বেশ কিছু দিন ধরে ওই টাকা গুলো সরিয়েছে। বিষয়টি ব্যাংক ম্যানেজার অরিজিৎ ভৌমিক ও ক্যাজুয়াল স্টাফ চন্দ্র শেখর বর্মণ জানতেন। মঙ্গলবার ওই টাকা ডাকাতি হয়ে গিয়েছে বলে একটি চিত্রনাট্য তৈরি করে পুলিশকে ফোনে জানায়। কিন্তু ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশের সন্দেহ হলে ওই তিন ব্যাংক কর্মীকে থানায় তুলে নিয়ে এসে জিজ্ঞসাবাদ করে। শেষ পর্যন্ত ক্যাজুয়াল স্টাফ চন্দ্র শেখর বর্মণ পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের চাপে পড়ে আসল ঘটনা জানায়। এরপরেই পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে। গতকাল তাঁদের দিনহাটা মহকুমা আদালতে তুলে ৬ দিনের জন্য রিমান্ডেও নেয় পুলিশ। এরপরেই পুলিশ এদিন ওই ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে ধৃতদের নিগমনগরে নিয়ে যায়।

এদিন ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে বেশ কয়েকজন স্থানীয় প্রবীণ নাগরিক জানিয়েছেন, এধরনের ঘটনা এই এলাকায় প্রথম। ডাকাতির ঘটনা ঘটলে স্থানীয় বাসিন্দারা বুঝতে পারতেন, ব্যাংকের নীচে একটি দোকান রয়েছে, তারাও বিষয়টি জানতেন না। পুলিশ আসার পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা বুঝতে পারেন। ওই বাসিন্দাদেরও ধারনা, ব্যাংক কর্মীরাই ওই ঘটনা ঘটিয়ে ডাকাতি বলে চালাতে চাইছিলেন।

যদিও পুলিশ ওই ঘটনা নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে নারাজ। তবে পুলিশের এক আধিকারিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, টাকা সরানোর ঘটনায় ওই ব্যাঙ্ক কর্মীরা যে জড়িত, তা ইতিমধ্যেই স্বীকার করে নিয়েছেন। এখন টাকা গুলো কোথায় রয়েছে, কে কত টাকা ভাগ পেয়েছ, তার হদিস করতেই তদন্ত করা হচ্ছে। খুব শীঘ্র সমস্ত ঘটনাই স্পষ্ট হয়ে যাবে।