‘সংখ্যা গরিষ্ঠতা আছে বলে সন্ত্রাসের রাজনীতি করা যায় না’, সিএএ প্রসঙ্গে বললেন চন্দ্র বসু

369

ওয়েব ডেস্ক, ২০ জানুয়ারিঃ নাগরিকত্ব সংশোধন আইন হওয়ার পরই গোটা দেশে দফায় দফায় চলছে বিক্ষোভ। বিজেপি বিরোধী বিভিন্ন রাজ্যগুলি এই আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে এখনও। এইরকম পরিস্থিতিতেই ফের একবার নাগরিকত্ব ইস্যু নিয়ে মুখ খুলে নিজের পার্টিরই চরম সমালোচনার সুর শোনা গেল চন্দ্র বসুর কণ্ঠে। তিনি বলেন, কোন মতেই কোনও আইন কারোর উপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। আর এই প্রসঙ্গ ওঠে, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে।যা বিজেপি সরকারের প্রস্তাবে পাশ হয়েছে সংসদে।

এদিন চন্দ্র কুমার বসু আরও বলেন,’আমাদের কাজ হল মানুষকে বোঝানো যে আমরা সঠিক আর ওঁরা ভুল।অশালীন হওয়া যাবে না। শুধুমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে বলেই আমরা সন্ত্রাসের রাজনীতি করতে পারব না।আমাদের মানুষের কাছে যেতে হবে সিএএর সুবিধা বুঝিয়ে দিতে।’

পাশাপাশি, সিএএ নিয়ে রাজ্য সরকারদের অবস্থান প্রসঙ্গে চন্দ্র বসু জানিয়েছেন, ‘একটা বিল একবার পাশ হয়ে গেলে সেটা মানতে বাধ্য থাকবে রাজ্য সরকার। সেটাই আইনত সঠিক। তবে গণতান্ত্রিক দেশে কিছুতেই কারোর উপর আইন চাপিয়ে দেওয়া যায় না।’ তার দাবি, ‘আমাদের এটা বোঝাতে হবে যে এই আইন অত্যাচারিতদের জন্য তৈরি হয়েছে। আমাদের ধর্মের উল্লেখ করা যাবে না। আমাদের বলার ধরণ আলাদা করতে হবে’।

এর আগে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) পশ্চিমবঙ্গ ইউনিটের সহ-সভাপতি, চন্দ্র কুমার বোস নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের (সিএএ) বিরোধিতা করেছেন এবং বলেছিলেন যে ভারত সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের জন্য উন্মুক্ত। “যদি সিএএ কোনও ধর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত না হয় তবে আমরা কেন হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধা, খ্রিস্টান, পার্সি এবং জৈনদের পাশাপাশি মুসলিমদের কেন অন্তর্ভুক্ত করবেন না? বিষয়টি স্বচ্ছ হতে দিন।”

সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই এই আইন কার্যকরী হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষেরা ভারতীয় নাগরিক হিসাবে পরিচিতি পাবেন। তাঁরা আর বেআইনি শরণার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন না।