নাগরিকত্ব হারানো বাবার মৃতদেহ না নিয়ে বাংলাদেশে পাঠাতে বললেন অসমের বাসিন্দা ছেলে

1206

ওয়েব ডেস্ক, ১৫ অক্টোবরঃ অসমের চূড়ান্ত এনআরসি তালিকায় নাম না থাকা এক বাঙালি মৃত্যু হল হাসপাতালে। কিন্তু তার মৃতদেহ নেওয়া ঘিরে ব্যাপক সমস্যা দেখা দিয়েছে। মৃত ওই ব্যক্তির নাম দুলাল চন্দ্র পাল (৬৫)। তাকে ২০১৭ সালে তেজপুর ডিটেনশন ক্যাম্পেই রাখা হয়েছিল। তিনি সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে গুয়াহাটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। হাসপাতাল থেকে ওই মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দিতে চাইলে তার ছেলে দেহ নিতে অস্বীকার করে।

পরিবারের লোকজনের দাবি, যেহেতু দুলাল পালকে বিদেশি ঘোষণা করা হয়েছে। তাই যতক্ষণ না তাকে ভারতীয় নাগরিক ঘোষণা করা হবে ততক্ষণ তার দেহ তারা নেবে না। নচেৎ সরকার মৃতদেহ বাংলাদেশে তাহলে পাঠিয়ে দিক। এর ফলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সমস্যায় পড়ে।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, মৃত দুলাল পালের বাড়ি অসমের শোনিতপুর জেলার অলিসিংহী গ্রামে। ২০১৭ সালে তাকে বিদেশি ঘোষণা করা হয়। এমনকি চূড়ান্ত এনআরসি তালিকায় নাম না থাকায় তাকে তেজপুর ডিটেনশন ক্যাম্পেই রাখা হয়েছিল। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে গুয়াহাটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

এ ব্যাপারে দুলাল পালের বড় ছেলে আশীষ পাল বলেন, ১৯৬০ সালের দলিল দেখিয়ে পরিবারের অন্যদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় উঠলেও বাবার নাম ওঠেনি। তাই, তার বাবাকে ভারতীয় ঘোষণা না করা পর্যন্ত যিনি মৃতদেহ নেবেন না।

তবে, এই ঘটনার পর অসম সরকারের তরফে এক প্রতিনিধি দল দুলাল পালের গ্রামে পাঠানো হয়েছে। গ্রামবাসীদের ও তার পরিবারের চেষ্টা চালানো হবে যাতে মৃতদেহ তারা নেন।

উল্লেখ্য, অসম সরকার সম্প্রতি এক পরিসংখ্যানে জানায়, ১৯৮৫ থেকে এখনও পর্যন্ত ৪৫ দিনের একটি শিশু এবং ৮৫ বছরের এক বৃদ্ধসহ মোট ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে ডিটেনশন ক্যাম্পে। প্রসঙ্গত, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করতে, অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি তৈরি করা হয়, সেখানে বাদ পড়ে ১৯ লক্ষ মানুষের নাম। অগস্টে প্রকাশ করা হয় চূড়ান্ত তালিকা। তবে সেই তালিকায় অসন্তুষ্ট বিরোধী এবং বিজেপি নেতৃত্বের একাংশ। নাগরিকপঞ্জি থেকে বহু বাঙালি হিন্দুর নাম বাদ পড়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বহু বিজেপি নেতা।