অস্থায়ী কলেজ শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের

223

ওয়েব ডেস্ক, ২৫ ডিসেম্বরঃ  রাজ্যের কলেজগুলির আংশিক সময়ের শিক্ষক, অতিথি শিক্ষক, চুক্তিভিত্তিক পূর্ণ সময়ের শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। এই মর্মে বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছে উচ্চশিক্ষা দফতর।

আগামী নতুন বছরের ফেব্রুয়ারি থেকেই নতুনহারে বেতন হাতে পাবেন রাজ্যের প্রায় ১৬হাজার শিক্ষক। উল্লেখ্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিপূর্বে ঘোষণা করেছিলেন, রাজ্যের কলেজগুলির আংশিক সময়ের শিক্ষক, অতিথি শিক্ষক ও চুক্তিভিত্তিক পূর্ণ সময়ের শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি করা হবে এমনটাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। তার জন্য গঠিত হবে একটি নতুন স্টেট এডেড কলেজ টিচার পোষ্ট। সেই ঘোষণা মতই এবার বিজ্ঞপ্তি জারি করল নবান্ন। সেই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এবার থেকে ওই তিনটি পদের জন্য যে সব শূন্যপদ তৈরি হবে তাতে যাঁরা নিয়োগ হবেন তাঁরা সংশ্লিষ্ট কলেজের পরিচালন সমিতির তরফে নিয়োগপত্র পাবেন। ওই পদে তাঁরা ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত চাকরিও করতে পারবেন। পাবেন বদলির সুযোগও। চাকরির মেয়াদ শেষে অবসরকালিন ভাতা হিসাবে এককালীন ৫ লক্ষ টাকাও পাবেন তাঁরা। প্রতি বছর ৩ শতাংশ হারে তাঁদের বেতন বৃদ্ধিও ঘটবে।

নতুন এই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, যে সব আংশিক সময়ের শিক্ষক, অতিথি শিক্ষক ও চুক্তিভিত্তিক পূর্ণ সময়ের শিক্ষকরা চলতি বছরের ১৩জুলাইয়ের আগে কাজে যোগদান করেছেন তাঁরা নতুন বেতনক্রম অনুযায়ী আগামী বছরের শুরু থেকেই বেতন পাবেন। ১ জানুয়ারি ২০২০ থেকে এই নতুন বেতনক্রম লাগু হবে। সেই হিসাবে ফেব্রুয়ারি মাসেই নতুন বেতনক্রম অনুযায়ী বেতন হাতে পাবেন আংশিক সময়ের শিক্ষক, অতিথি শিক্ষক ও চুক্তিভিত্তিক পূর্ণ সময়ের শিক্ষকরা। সেই সঙ্গে ওই বিজ্ঞপ্তিতে এটাও জানানো হয়েছে যে, এই বেতনক্রম অনুযায়ী স্যাক্ট-১ ও ১০ বছরের বেশি অভিজ্ঞরা পাবেন ৩৫ হাজার টাকা বেতন। স্যাক্ট-১ ও ১০ বছরের কম অভিজ্ঞরা পাবেন ৩১ হাজার টাকা। স্যাক্ট-২ ও ১০ বছরের বেশি অভিজ্ঞরা পাবেন ২৫ হাজার টাকা। স্যাক্ট-২ ও ১০ বছরের কম অভিজ্ঞরা পাবেন ২০ হাজার টাকা বেতন। তবে এই বিজ্ঞপ্তি নিয়ে কিছু বিতর্কও তৈরি হয়েছে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, যে সব আংশিক সময়ের শিক্ষক, অতিথি শিক্ষক ও চুক্তিভিত্তিক পূর্ণ সময়ের শিক্ষকরা এই বেতনক্রমের আওতায় আসবেন তাঁদের প্রয়োজনে বদলি যেমন করা যাবে তেমনি কাজে অসন্তোষ, খারাপ রেকর্ড ইত্যাদি কারনে চাকরি থেকে ছাঁটাইও করা যাবে। আর সেটা করবে কলেজেরই পরিচালন সমিতি। এই বিষয়টি নিয়েই বিতর্ক বেঁধেছে।

এই মুহুর্তে রাজ্যে কর্মরত প্রায় ১৬ হাজার আংশিক সময়ের শিক্ষক, অতিথি শিক্ষক ও চুক্তিভিত্তিক পূর্ণ সময়ের শিক্ষকরা নতুন বেতনক্রমকে স্বাগত জানালেও এই নিয়মটি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন।