কুয়াশাচ্ছন্ন আকাশের চেয়ে সোনা রোদ মাখা ঝকঝকে আকাশ আমায় বেশি টানে

134

শীতের হাওয়ায় লাগল নাচন। বঙ্গজ ঋতুতে শীত একটা বড় ভূমিকা পালন করে। এই শীতের আমেজ যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে শীত আতঙ্কও। তবুও শীত শেষেই আসবে বসন্ত। ফুলে ফলে পল্লবিত হবে মানুষের হৃদয়। এই শীতে মানুষ যেন খুঁজে পায় এক অন্য অনুভূতি। শীতের আমেজে রকমারি খাওয়া দাওয়া, রকমারি পোশাক যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে শ্লথ হয়ে যাওয়া কাজের গতিও। সব মিলিয়ে শীত যেন উপভোগেরই।

বছর শেষে ঠাণ্ডার প্রকোপ থাকে বেশী।যেন জাঁকিয়ে শীত। কুয়াশা ভেদ করে বেরাতে যাওয়া থেকে শুরু করে বনভোজন। আহারের নানা বাহার এই সময়েই পেয়ে থাকে এই বাংলার মানুষ। বর্ষবরণের প্রস্তুতি হয় এই সময়েই। সব মিলিয়ে শীত যেন উৎসবের মরসুম। এই শীতে আমাদের ধারাবাহিক প্রতিবেদন “শীতের গীত”। আজ তার ষষ্ট দিন, এই পর্বে লিখেছেন বাচিক শিল্পী ও সঞ্চালক পিয়াসী চক্রবর্তী ।

পিয়াসী চক্রবর্তী

শীতের চাদর মোড়া আমার শহর। বছর শেষে উৎসবের আমেজ। রাস্তার ধারে চায়ের দোকানে গরম চায়ে চুমুক দিতে দিতে তুমুল আড্ডা, আবার কোথাও কনকনে শীতে খরকুটো জ্বালিয়ে মা কাকিমার অবসর যাপন… Ringing  bells of a dying year. যদিও কুয়াশাচ্ছন্ন আকাশের চেয়ে সোনা রোদ মাখা ঝকঝকে আকাশে আমায় বেশি টানে বরাবর, তবুও শীত এলেই একটা অদ্ভুত নস্টালজিয়া কাজ করে। কুয়াশা মাখা সকালে আবার কখনো মন কেমনের দুপুরবেলায় ভেসে আসে হারিয়ে যাওয়া দিনের অনেক স্মৃতি।

মনেপরে আমাদের ছোটবেলায় শীতকাল এলেই পাড়ায় পাড়ায় প্রতিযোগিতামূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হতো। যদিও তা খুব বেশি দিন আগের কথা নয়। বাবা-মায়েরা ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের হাত ধরে উপস্থিত হতেন সেই অনুষ্ঠানে। প্রত্যেক বছর শীত এলেই আমার বাবা জেলাজুড়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের খবর নিয়ে আসত এবং সেই মতো আমরা ছুটে যেতাম কোচবিহার শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। কতদিন অনুষ্ঠান করতে গিয়ে সকাল গড়িয়ে সন্ধ্যে হয়েছে… দিনশেষে কখনো জয়ের হাসি আমাদের আনন্দিত করেছে, আবার কখনো না পাওয়া আগামীদিনে নতুন লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত করেছে। এখন আর দু – একটি সংস্থা ছাড়া সেরকম ভাবে এইসব অনুষ্ঠানের আয়োজন চোখে পড়ে না । হয়তো মানুষের বিনোদন সামগ্রী বেড়ে যাওয়ায় কেউই আর এইসব এ তেমন আগ্রহী নয়। তবে যতদিন প্রতিযোগিতা থাকে ততদিন লড়াই করার মানসিকতা থাকে এবং প্রত্যেকটি মুহূর্তে ভালো থেকে আরও ভালো করার চেষ্টা প্রতিযোগীকে এগিয়ে নিয়ে যায়। 

বদল জীবনের স্বাভাবিক ধর্ম আর এই নিয়ম মেনে আমরাও এগিয়ে চলি। সময়ের সাথে সাথে এক শীত পেরিয়ে আর এক শীত আসে। দৈনন্দিন কার্যকলাপের সাথে সাথে বছর শেষের উৎসবের আমেজ আমাদের নতুন করে আলোর দিশারী করে তোলে… গাছের জীর্ণ পাতা ঝরার মতোই জীবনের মলিন স্মৃতিগুলো মুছে আনন্দের, ভালোবাসার রঙে নিজেদের রাঙিয়ে তোলার চেষ্টায় আরও একবার আমরা পা বাড়াই আগামীর পথে কারণ আমরা জানি, ” if winter comes can Spring be far behind?”